আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে চরম উত্তেজনা। এই বিষয়ে আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মোদি। জানা গিয়েছে, এই বৈঠকের মাঝেই আচমকা যোগ দেন বিশ্বের সবথেকে ধনী ব্যক্তি  ইলন মাস্ক! যা নিয়েই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মাস্ক বর্তমানে মার্কিন প্রশানের কোনও পদে নেই। তাহলে তিনি কূটনৈতিক নিয়মের বেড়াজাল ভেঙে কীভাবে ট্রাম্প-মোদির বৈঠকে অংশ নিলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটি ফোনালাপে অংশ নেন ইলন মাস্ক। যুদ্ধকালীন সংকটের মুহূর্তে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে আলোচনায় একজন সাধারণ নাগরিকের এমন উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক।” সরকারি পর্যায়ে কোনও আনুষ্ঠানিক পদ না থাকা সত্ত্বেও মাস্ককে এই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা বিষয়টি বিশেষভাবে নজরে এসেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, এই ফোনালাপের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল মধ্য এশিয়ায় ক্রমশ ঘনীভূত হতে থাকা সংকট, বিশেষ করে ‘হরমুজ প্রণালী’-র ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ।

তবে, মাস্ককে কেন এই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, কিংবা তিনি আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন কি না - সে বিষয়টি এখনও অস্পষ্টই রয়ে গিয়েছে।

উল্লেখ্য, একসময় ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসাবেই পরিচিত ছিলেন ইলন মাস্ক। ট্রাম্পের হয়ে নির্বাচনী প্রচারও করেছিলেন তিনি। পরে ট্রাম্প  ক্ষমতা এসে টেসলা প্রধানের জন্য আলাদা একটি প্রশাসনিক দপ্তর তৈরি করে দিয়েছিলেন। যদিও বর্তমানে সেই দপ্তরের আর কোনও অস্তিত্ব নেই।

নেপথ্যের প্রভাব, নাকি নিছকই কাকতালীয়?
মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মার্কিন পেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠকে ইলন মাস্কের উপস্থিতি, সম্ভবত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের উন্নতিরই ইঙ্গিত। গত বছর তাঁদের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। মহাকাশ গবেষণা, জ্বালানি এবং বাজার - বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত মাস্কের ব্যবসায়িক স্বার্থগুলো এমন সব অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, যা বর্তমান সংকটের ফলে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত হচ্ছে; এর মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ভারত অন্যতম।

মাস্ক ভারতেও তাঁর ব্যবসায়িক পরিধি বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগ - যেমন স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদনের বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দুই দেশের আলোচনার মূল বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালীতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। কারণ বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি বিশাল অংশ এই জলপথ দিয়েই যাতায়াত করে।

হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তায় জোর দিলেন ট্রাম্প এবং মোদি
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এর আগে জানিয়েছিলেন যে, ট্রাম্প ও মোদির ফোনালাপ চলাকালীন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি যেন সর্বদা উন্মুক্ত ও ব্যবহারযোগ্য থাকে তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী মোদি এই কথোপকথনকে একটি “ফলপ্রসূ মতবিনিময়” হিসেবে অভিহিত করেন এবং উত্তেজনা প্রশমন ও দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ভারতের পূর্ণ সমর্থনের কথা তুলে ধরেন। 

প্রধানমন্ত্রী মোদি সংসদে দাঁড়িয়ে হরমুজ প্রণালীতে যেকোনও ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টিকে “অগ্রহণযোগ্য” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার ঠিক আগেই মোদি- ট্রাম্প বৈঠক হয়। হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পরিবহন পথগুলোতে জারি অস্থিতিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেই তিনি এই মন্তব্য করেন।

লোকসভায় দেওয়া ভাষণে তিনি মোদি জানান যে, ভারতের নিজস্ব জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বর্তমানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজ্যসভায় তিনি সতর্ক করে বলেন যে, এই সংকট বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থিতির করে তুলেছে, এর ফলে বাণিজ্যিক পথগুলো ব্যাহত হচ্ছে এবং জ্বালানি, গ্যাস ও সারের সরবরাহে প্রভাব পড়ছে।

জাহাজ চলাচলে সৃষ্ট এই বিঘ্ন ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে এবং এশিয়ার কোন কোন অংশে সরবরাহের ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

প্রোটোকল নিয়ে প্রশ্ন
'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস' উল্লেখ করেছে যে, রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যকার টেলিফোন আলাপে - যেখানে প্রায়শই স্পর্শকাতর জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয় - সাধারণ নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা একটি বিরল ঘটনা।

এই ফোনালাপের বিষয়ে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবরণীতে হোয়াইট হাউস কিংবা ভারতীয় কর্মকর্তাদের কেউই মাস্কের অংশগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করেননি।

হোয়াইট হাউস এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।  অন্যদিকে, এ বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও ইলন মাস্ক কোনও সাড়া দেননি।