আজকাল ওয়েবডেস্ক: আধুনিক নির্মাণকাজ সিমেন্ট ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। বহুতল ভবন, সেতু কিংবা শহুরে পরিকাঠামোর মূল ভিত্তিই হল এই উপাদান। কিন্তু এই শক্তপোক্ত নির্মাণসামগ্রীর পরিবেশগত মূল্যও কম নয়। সিমেন্ট উৎপাদন বিশ্বজুড়ে মোট কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনের প্রায় ৮ শতাংশের জন্য দায়ী, আর এর অন্যতম কাঁচামাল চুনাপাথর সংগ্রহ করতে পাহাড় ভাঙতে হয়। এবার হয়তো সেই নির্ভরতা কমানোর পথ দেখাল অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের এক গবেষণাগার।
অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তৈরি করেছেন এক নতুন নির্মাণ উপাদান—কার্ডবোর্ড-কনফাইন্ড র্যা মড আর্থ। এই উপাদান সিমেন্টের মতোই শক্তিশালী হতে পারে, অথচ তৈরি করা যায় শুধুমাত্র মাটি, জল এবং রিসাইকেল করা কার্ডবোর্ড দিয়ে। গবেষকদের দাবি, এটি আধুনিক পরিকাঠামোর অন্যতম দূষণকারী উপাদান সিমেন্টের কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
এই পদ্ধতির ভিত্তি হল প্রাচীন র্যা মড আর্থ নির্মাণ কৌশল। তবে এখানে সিমেন্ট স্ট্যাবিলাইজারের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে রিসাইকেল করা কার্ডবোর্ডের টিউব। এই টিউবগুলো একসঙ্গে ফর্মওয়ার্ক ও শক্তিবর্ধক কাঠামোর কাজ করে। টিউবের ভেতরে মাটি ও জল ভরে সাধারণ হাতের যন্ত্র দিয়েই চাপ দিয়ে বসানো হয়। শুকিয়ে গেলে কাঠামো নিজেই ভার বহনে সক্ষম হয়ে ওঠে—এর জন্য কোনও কিলন, সিমেন্ট প্রয়োজন পড়ে না।
‘স্ট্রাকচারস’ জার্নালে প্রকাশিত ল্যাব পরীক্ষায় দেখা গেছে, কার্ডবোর্ড-শক্তিশালী করা মাটি অনেক ক্ষেত্রে সিমেন্ট-স্থিতিশীল র্যাসমড আর্থের চেয়েও বেশি চাপ সহ্য করতে পারে, বিশেষ করে যখন টিউবের পুরুত্ব ১ থেকে ৪ মিলিমিটারের মধ্যে থাকে। আরও উন্নত সংস্করণে কার্বন ফাইবার ব্যবহার করে এমন শক্তি পাওয়া গেছে, যা উচ্চমানের কংক্রিটের কাছাকাছি।
এই প্রযুক্তির আরেকটি বড় সুবিধা হল বর্জ্য ব্যবহারের সুযোগ। অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি বছর প্রায় ২২ লক্ষ টন কাগজ ও কার্ডবোর্ড ল্যান্ডফিলে জমা পড়ে। সেই বর্জ্যকে মূল্যবান নির্মাণসামগ্রীতে রূপান্তরের পথ খুলে দিচ্ছে। কার্ডবোর্ডের ছাঁচ হালকা হওয়ায় সহজে পরিবহনযোগ্য, আর মাটি ও জল স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায়—ফলে খরচ কমে এবং শিল্পনির্ভর উপকরণের প্রয়োজনও হ্রাস পায়।
গরম আবহাওয়ার জন্যও এই পদ্ধতি উপযোগী। র্যাবমড আর্থের মতোই এটি উচ্চ তাপধারণ ক্ষমতা রাখে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে ঘর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং শক্তি ব্যবহারের পরিমাণ কমায়।
মডুলার নকশার কারণে টিউবের পুরুত্ব ও মাটির মিশ্রণ বদলে সহজেই শক্তি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই এটি কম উচ্চতার আবাসন, জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র ও জলবায়ু-সহনশীল পরিকাঠামো তৈরিতে বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে।
