আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর্জেন্টিনার সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতি — হোরাসিও রোসাত্তি, কার্লোস রোজেনক্রান্টজ ও রিকার্ডো লোরেনসেত্তি — প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও পেরোনিস্ত নেত্রী ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ ডে কিরচনারের ছয় বছরের কারাদণ্ড এবং আজীবনের জন্য সরকারি পদে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন।
২০০৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সান্তা ক্রুজ প্রদেশে ৫১টি রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তবে ৭২ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় নেত্রী এই রায়কে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করে বলেছেন, এটি একটি "ল’ফেয়ার" — আইনি অস্ত্র দিয়ে বিরোধীদের দমন করার কৌশল। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এক্স-এ লিখেছেন, “আমাকে জেলে পাঠিয়ে কি দেশের জনগণের বেতন বাড়বে? স্কুল-হাসপাতাল খোলা হবে? আইএমএফ-এর ঋণ শোধ হবে?”
ফার্নান্দেজ সম্প্রতি ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি আগামী ৭ সেপ্টেম্বর বুয়েনস আয়ার্স প্রদেশ থেকে নির্বাচনে দাঁড়াবেন। এর ঠিক এক সপ্তাহের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট পূর্বনির্ধারিত তারিখ ছাড়াই তাঁর মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে। এই রায় ঘোষণার পর রাজধানীতে হাজার হাজার পেরোনিস্ত সমর্থক রাস্তায় নেমে আসেন। অপরদিকে, বর্তমান ডানপন্থী রাষ্ট্রপতি হাভিয়ের মিলে এক্স-এ লিখেছেন, “ন্যায়বিচার। শেষ।”
আন্তর্জাতিকভাবে কিউবা, বলিভিয়া সহ লাতিন আমেরিকার বহু প্রগতিশীল নেতা এই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে নিন্দা জানিয়েছেন এবং ক্রিস্টিনার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। ক্রিস্টিনার আইনজীবীরা হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং তাঁর বয়সের কারণে গৃহবন্দিত্বের আবেদন করেছেন।
এই ঘটনা আবারও লাতিন আমেরিকায় “ল’ফেয়ার” নিয়ে বিতর্ককে উসকে দিয়েছে, যেখানে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি লুলা দা সিলভা, রাফায়েল কোরেয়া প্রমুখ নেতারাও একই ধরনের মামলার শিকার হয়েছিলেন।
