আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি এক আমেরিকান দম্পতির একটি সাহসীকতার ঘটনায় তোলপাড় নেটপাড়া। মারান্দা বাউনারস এবং স্বামী জন ফ্লোরিডার আমেরিকার পেন্সাকলায় তাঁদের তিন ঘরের ভাড়া বাড়ি ছেড়ে একটি ছোট হোটেল রুমে থাকতে চলে যান। কারণ, ২০২৩ সালে জন তাঁর কাজের জায়গায় এক দুর্ঘটনার শিকার হন এবং গুরুতর ভাবে আহত হন। একটি লোহা তাঁর হাতের ওপর পড়ে এবং ডানহাত ভেঙ্গে যায়। যার ফলে তিনি কাজ করা বন্ধ হয়ে যায় এবং কাজ করতে না পারার কারণে তাঁর রোজগার কমে যায়।
আয় কমে যাওয়ার ফলে, তাঁদের তিন বাড়ির ইলেকট্রিসিটি বিল থেকে শুরু করে বাড়ির ভাড়া দিতে অসুবিধা হয়ে যায়। তাদের অন্যান্য বিলের সঙ্গে প্রতি মাসে কেবল ভাড়ার জন্য ২৩০০ ডলার, যা ভারতীও টাকায় প্রায় ২ লক্ষ টাকার সমান, টাকা দিতে হত। জনের স্ত্রী বলেন, জনের এই দুর্ঘটনার পর তাঁর একার ওপর পুরো সংসারের দায়িত্ব পড়ে যায় এবং একাই তাঁকে সমস্ত খরচ চালাতে হত যা তাঁর পক্ষে টানা সম্ভব হয়ে উঠছিল না একটা সময়ের পর।
এই দম্পতি সাহস করে একটি পদক্ষেপ নেন। তারা আগের বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং একটি ছোট রুমের খোঁজ করতে থাকেন। খোঁজ করার পর তাঁরা নিউ ইয়র্ক এ একটি ছোট হোটেল রুমের সন্ধান পান, যেখানে তাঁরা ছয় মাস থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের হোটেল থেকে বলা হয়েছে এক মাসের ভাড়া আগে দিতে হবে না, সঙ্গে সপ্তাহে ৩০৭ ডলার (প্রায় ২৮,০০০ টাকা) বিল হবে যার মধ্যে বিদ্যুৎ,জল, ইন্টারনেট, পার্কিং এবং রুম পরিষ্কারের পরিষেবা দেওয়া হবে। তাঁদের হোটেলের ঘরটি ছোট তবে প্রতিদিন জীবনযাপনের জন্য যা প্রয়োজন তার জন্য ঠিকঠাক।
তাঁরা বলেন, "আমরা আমাদের সমস্ত টাকা একটি বিশাল বাড়িতে রাখার চেয়ে সরলভাবে বাঁচতে চাই। সঙ্গে বলেন আমরা এখন ছোট বাড়ি পছন্দ করি, বড় বাড়ি আর চাই না। সরলভাবে জীবনযাপন করার জন্য এখন সহজ জীবন বেছে নিয়েছি তাই"। এটিও বলেন, "আমাদের চলাফেরা বিলাসবহুল নয় তবে আমরা যা জমায় তা মূল্যবান আমাদের কাছে। প্রতি মাসে ভাড়া নিয়ে আমাদের আর ভাবতে হয় না আর এই নিয়ে কোন চিন্তাও থাকে না আর"।
তাঁদের হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় ১০০০ ডলার করে জমিয়ে ,এক বছরে ১২,০০০ ডলার এবং দুই বছরে প্রায় ২২ লক্ষ টাকা সাশ্রয় করেন। পরিবারের আয় সাশ্রয় করে আলাদা করে রেখে মারান্দা ধীরে ধীরে বড় স্বপ্নের দিকে এগোচ্ছেন। তিনি বলেন, গত দুই বছর ধরে জমানো ১০০০ ডলার সাশ্রয় করে এক টুকরো জমি কিনতে চান এবং নিজের জন্য একটি ছোট বাড়ি বানাতে চান। মারান্দা বিশ্বাস করেন, যে এই সাধারণ জীবন যাপন তাঁদের নিজস্ব বাড়ির স্বপ্নের কাছাকাছি যেতে সাহায্য করবে।















