আজকাল ওয়েবডেস্ক: বালুচিস্তান নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে ইসলামাবাদের। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের প্রদেশ বালুচিস্তানে সেনা বহনকারী একটি ট্রেনকে লক্ষ্য করে রেললাইনের পাশে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত ডজনখানেক বলে খবর।

প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রেনটি যখন কোয়েটার 'চামান পাটক' এলাকার একটি সিগন্যাল পার হচ্ছিল, ঠিক তখনই বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি ট্রেনের বগিতে সজোরে ধাক্কা মারে। ঘটে বিশাল বিস্ফোরণ।

নিহতদের মধ্যে সেনাবাহিনীর অনেক সদস্য এবং তাদের পরিবারের লোকজন রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ট্রেনটি পেশাওয়ারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে চলা ইদুল ফিতরের ছুটি উদযাপন করতে ট্রেন যাত্রীরা ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছিলেন।

বিস্ফোরণের তীব্রতায় ট্রেনের দু'টি বগি উল্টে যায় এবং সেগুলিতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থল থেকে আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। প্রকাশিত ছবিতে ট্রেনের একটি বগিকে দুমড়েমুচড়ে একপাশে কাত হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থায়ীরা ধ্বংসস্তূপের ওপর চড়ে জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি চালান। ট্রেনের লাইনচ্যুত বগিটি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা দেহগুলি স্ট্রেচারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই সময়ে সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পাহারায় ছিল।

বিস্ফোরণের জেরে রেললাইন থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিটার দূরে রাখা অনেকগুলো গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। সেগুলোর পাশেই একটি বহুতল ভবনের কাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। ওই বাড়ির একাধিক জানালা উড়ে গিয়েছে এবং দেয়ালগুলো ধসে পড়েছে।

বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে, এটি একটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ছিল।

এক বিবৃতিতে বালুচ লিবারেশন আর্মি বলেছে, "আজ সকালে বালুচ লিবারেশন আর্মির ফিদায়ে (আত্মোৎসর্গকারী) ইউনিট (মজিদ ব্রিগেড) কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট থেকে দখলদার বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী একটি ট্রেনকে অত্যন্ত সুসংগঠিত এক ফিদায়ে হামলার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। এই অভিযানের পূর্ণ দায়ভার বালুচ লিবারেশন আর্মি গ্রহণ করছে।"

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "এই অভিযান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এবং হামলার ফলে শত্রুপক্ষের যে প্রাণহানি ঘটেছে, সে বিষয়ে শীঘ্রই সংবাদমাধ্যমের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।"

কোয়েটা হল বিদ্রোহে জেরবার বালুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী। ঘটনাটি এমন একটি এলাকায় ঘটেছে, যেখানে সাধারণত সব সময়ই নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকে।

ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী বালুচিস্তান প্রদেশটি, কয়েক দশক ধরে জাতিগত বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নেতৃত্বে চলা বিদ্রোহের শিকার। এই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা, অধিকতর স্বায়ত্তশাসন এবং প্রদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিজেদের বৃহত্তর অংশীদারিত্বের দাবি জানিয়ে আসছে। কালাত দেশীয় রাজ্যের পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরপরই পাকিস্তানি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বালুচ প্রতিরোধ আন্দোলন শুরু হয়। এরপর থেকে সেখানে বেশ কয়েকটি বিদ্রোহের ঘটনা ঘটেছে।

গত কয়েক বছরে, ‘বিএলএ’-এর মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো নিরাপত্তা বাহিনী, আম নাগরিক, পরিকাঠামো এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পকে নিশানা করেছে।