আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইজরায়েলকে, হিজবুল্লার সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট জানান, লেবাননে হিংসা বেড়ে যাওয়ায় ইরানের সঙ্গে ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, আর ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি হস্তক্ষেপ করেন।

'এনবিসি নিউজ'কে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইজরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সংযম প্রদর্শনের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি ছিল, লড়াই অব্যাহত থাকলে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক চুক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

'এনবিসি নিউজ'-এর এক সাংবাদিক 'এক্স'-এ সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, ট্রাম্প বলেছেন, "মাঝে মাঝে শান্ত হওয়া এবং কাণ্ডজ্ঞান কাজে লাগানো প্রয়োজন।" তবে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তিনি সরাসরি কথা বলেছেন কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প কিছু বলেননি।

লেবাননে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর ইজরায়েল ও হিজবুল্লা যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসে। এই সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছিল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিকে মধ্য এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপান্তরের প্রচেষ্টার ওপর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছিল।

প্রাণঘাতী সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনার পর লেবাননের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ওই কর্মকর্তা জানান, ইরান ও কাতারের সহায়তায় মার্কিন ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা এই চুক্তি সম্পাদনে সহায়তা করেছেন।

হিজবুল্লার দু'টি সূত্র এবং ইজরায়েলের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা রয়টার্সকে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইজরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, "হিজবুল্লা যদি আমাদের ওপর হামলা না চালায়, তবে আমাদের জন্য এটি যুদ্ধের সময় নয়।" তিনি আরও জানান যে, ইজরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন থাকবে।

লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর প্রথম ঘণ্টায় ইজরায়েল বেশ কয়েকটি বিমান হামলা চালিয়েছিল। তবে বিকেল ৫টার পর আর কোনও হামলার খবর পাওয়া যায়নি।

লেবাননের সংঘাতে সমস্যায় ইরান চুক্তি 
লেবাননে হিংসা ছড়িয়ে পড়ার কারণে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করতে হয়। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার অগ্রগতির জন্য এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আওতায়, ওয়াশিংটন ও তেহরান ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে একটি বৃহত্তর সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ৬০ দিন সময় নির্ধারণ করেছে।

হিজবুল্লার আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লা বলেছেন, ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে পরবর্তী আলোচনা লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি বজায় থাকার ওপর নির্ভর করছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও সতর্ক করে বলেছেন যে, চুক্তির শর্তাবলী ও প্রতিশ্রুতিগুলো যাতে যথাযথভাবে মেনে চলা হয়, তার দায়ভার ওয়াশিংটনকেই নিতে হবে।

ইরান চুক্তির পক্ষে ট্রাম্পের সাফাই
ইজরায়েল প্রসঙ্গে ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন তিনি ইরানের সঙ্গে করা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির পক্ষে নতুন করে সাফাই গাইছেন। রিপাবলিকান শিবিরেরই অনেকে এই চুক্তির সমালোচনা করছেন। তাঁদের মতে, এতে তেহরানকে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে, সংঘাতের ফলে ইরান মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প লেখেন, "এই যুদ্ধ ইরানকে কোণঠাসা ও দুর্বল করে দিয়েছে! আমরা কোনও নিরুপায় অবস্থায় পড়ে আলোচনায় বসিনি, বরং ইরানই তা করেছে। তাদের পতন নিশ্চিত!" চুক্তির ফলে তেহরান আর্থিকভাবে লাভবান হবে, এমন ধারণাও তিনি নাকচ করে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, "আমরা ৬০ দিনের সময়সীমা পর্যন্ত অপেক্ষা করব। তারা কোনও অর্থই পাবে না, এক পয়সাও না!"