আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর আমেরিকার স্থানীয় ফল অ্যারোনিয়া যা সাধারণভাবে ব্ল্যাক চোকবেরি নামে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে এটি পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই ছোট, গাঢ় রঙের বেরিগুলিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পলিফেনলিক যৌগ—প্রাকৃতিক রাসায়নিক উপাদান, যেগুলি সাধারণ পুষ্টিগুণের বাইরে গিয়েও শরীরের জন্য বাড়তি উপকার এনে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পলিফেনল দীর্ঘদিন ধরেই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত। গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলি শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং প্রদাহজনিত প্রক্রিয়াকে শান্ত করতে ভূমিকা নেয়। এই কারণেই অনেকেই জানতে চাইছেন, অ্যারোনিয়া কি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিতে পারে? একটি সাধারণ ফল কি সত্যিই সুস্থ জীবনযাপনকে সমর্থন করতে পারে—এই প্রশ্ন ঘিরেই বাড়ছে কৌতূহল।
সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, অ্যারোনিয়া জুস কি খাদ্যাভ্যাসজনিত কিছু সমস্যার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে কিনা। বিশেষ করে যেগুলি অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের সঙ্গে যুক্ত। আমাদের অন্ত্রে থাকা অগণিত উপকারী ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যই অনেকাংশে হজম, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং প্রদাহের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। আধুনিক খাদ্যাভ্যাস, বিশেষ করে উচ্চ-চর্বিযুক্ত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার, এই ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন মন্টানা স্টেট ইউনিভার্সিটির ড. স্টেফানি এম. জি. উইলসন। তাঁর দল খতিয়ে দেখেছেন, অ্যারোনিয়া বেরি খাদ্যতালিকায় যোগ হলে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে নজর দেওয়া হয়েছে, যেখানে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস প্রদাহ বাড়িয়ে তুলতে পারে।
প্রাথমিক গবেষণার ফলাফল বেশ আগ্রহজনক। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, অ্যারোনিয়া গ্রহণের ফলে অন্ত্রের কিছু ব্যাকটেরিয়াল গোষ্ঠীর গঠনে পরিবর্তন আসতে পারে। কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যেগুলি শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক বলে পরিচিত। একই সঙ্গে উচ্চ-চর্বিযুক্ত খাদ্যের কারণে যে চাপ বা ‘স্ট্রেন’ অন্ত্রের ওপর পড়ে, অ্যারোনিয়া তা কিছুটা লাঘব করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
গবেষকরা মনে করছেন, অ্যারোনিয়ায় থাকা পলিফেনল এই প্রভাবের মূল চালিকাশক্তি। এই যৌগগুলি সরাসরি অন্ত্রের কোষের ওপর কাজ করার পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়ার বিপাকক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয় যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের পক্ষে অনুকূল।
তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, এই ফলাফল এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের। মানুষের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও বৃহৎ পরিসরের গবেষণা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যে অ্যারোনিয়া জুস নিয়মিত পান করলে কী ধরনের স্বাস্থ্যলাভ সম্ভব। এটিকে কোনও ‘ম্যাজিক ফুড’ হিসেবে দেখার বদলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
তবুও, এই গবেষণা অ্যারোনিয়াকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। অন্ত্রের স্বাস্থ্য, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক সুস্থতায় একটি সাধারণ বেরির ভূমিকা কতটা গভীর হতে পারে—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বিজ্ঞানীরা এখন আরও গভীর অনুসন্ধানে এগোচ্ছেন।
