আজকাল ওয়েবডেস্ক: হাসিনা সরকারের পতনের পর, প্রথম ভোট বাংলাদেশে। অন্যদিকে প্রথম ভোট ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকারের নেতৃত্বে। এই ভোটের দিকে নজর সব পক্ষের। তবে রাত গড়াতেই একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, দেশের একাধিক জায়গায় ভোটের কয়েকঘণ্টা আগে থেকেই অশান্তি ছড়িয়েছে তীব্রভাবে। 

 

সংবাদমাধ্যম দ্য ডেলি স্টারের প্রতিবেদন সূত্রে খবর, বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির এক প্রার্থীর অভিযোগ, পোলিং অফিসারের সহায়তায় জামাত নেতা-কর্মীরা ব্যালট পেপারে সিল মারার চেষ্টা করেছেন।

 

অন্যদিকে ভোটের একদিন আগে জামাতের ঠাকুরগাঁও ইউনিটের প্রধান বেলাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি ৭৪ লক্ষ টাকা-সহ আটক হয়েছেন। অন্যদিকে টাকা উদ্ধারের অভিযোগ  বিএনপি প্রার্থী  শহিদউদ্দীন চৌধুরী অ্যানির ব্যক্তিগত সহকারীর কাছে। জানা গিয়েছে তার গাড়ি থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে।

 

 বাংলাদেশ এবং সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, রাজশাহীর চারঘাটে বিএনপি কর্মীকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে তাঁর নাম বিরাজ উদ্দীন।

 

প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার, ৩০০টি সংসদীয় আসন এবং তিনটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ—সব মিলিয়ে এই জাতীয় নির্বাচনকে স্বাধীনতার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোট বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বহু নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু এবারের ভোট দেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ ঠিক করে দিতে পারে বলেই উত্তেজনা তুঙ্গে।


নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম এত বড় সংখ্যক ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চলেছেন। তরুণ ভোটারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী নতুন প্রজন্মের ভোটাররাই এবার ‘কিংমেকার’ হতে পারেন বলে ধারণা। কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং দুর্নীতির মতো ইস্যুগুলিই তাঁদের ভোটের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে।

&t=4185s

৩০০ আসনের এই লড়াইয়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্ষমতাসীন দল, প্রধান বিরোধী জোট এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তিনটি সম্ভাব্য ফলাফল সামনে আসতে পারে। প্রথমত, ক্ষমতাসীন দল আবারও স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে, যা ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। দ্বিতীয়ত, হাং পার্লামেন্ট বা ঝুলন্ত সংসদ—যেখানে কোনও দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না, ফলে জোট রাজনীতি এবং দরকষাকষির যুগ শুরু হতে পারে। তৃতীয়ত, বিরোধীদের বড় উত্থান—যা দেশে বড় রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত দেবে।