আজকাল ওয়েবডেস্ক: হাসিনা সরকার পতনের  পর, এই প্রথম ভোট পদ্মাপারে। অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মহম্মদ ইউনূস মাঝের দীর্ঘ সময়কাল দায়িত্ব সামলেছেন।

তবে বড় অল্প সময়েই, তাঁর নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকারের উপর মানুষের ক্ষোভের সঞ্চার ঘটেছে, তাও উল্লেখ্য। অন্যদিকে পদ্মাপারের রাজনীতিতে ঘটে গিয়েছে আরও একাধিক ঘটা। খালেদা জিয়া ভোট লড়বেন নাকি লড়বেন না, এই জল্পনার মাঝেই প্রয়াত হয়েছেন। রাজনীতির ময়দানে তাঁর ফিরে আসা আর দেখা হল না ওপার বাংলার।

অন্যদিকে বিদেশ থেকে ফিরে বিএনপি'র দায়িত্ব নিয়েছেন তারেক রহমান। টানটান উত্তেজনা, অনিশ্চয়তা আর প্রত্যাশার আবহে মঙ্গলবার সকালে শেষ হল বাংলাদেশের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারপর্ব। সংক্ষিপ্ত কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ  এই নির্বাচনী লড়াই শেষ পর্যন্ত এসে দাঁড়িয়েছে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের মুখোমুখি সংঘাতে—বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এবং জামায়াতে ইসলামি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে। ২০০৮ সালের পর এটিই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন। প্রচার শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে বাংলাদেশ টেলিভিশনে পৃথক ভাষণে জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামাতের আমির শফিকুর রহমান। দুই ভাষণেই ছিল ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শন, ভিন্ন অগ্রাধিকার এবং ইতিহাসের ভিন্ন পাঠ। ৩৭ মিনিটের ভাষণে তারেক রহমান ভোটারদের আহ্বান জানান ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দিয়ে “নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ” গড়ার সুযোগ দিতে।

একাধিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ভোটমুখী বাংলাদেশে আরও তাৎপর্যপূর্ণ এই ভোটে বিএনপি আদতে কী চাইছে তা। বিএনপি কি চাইছে ভারতের সঙ্গে সু-সম্পর্ক? এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, এই দলের ইশতেহার। ভোটের আগে প্রকাশ করা ইশতেহারে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার কাজের প্রসঙ্গ উল্লিখিত হয়েছে। অন্যদিকে বলা হয়েছে, যেহেতু বাংলাদেশের জনগণের উপর যেকোনও আক্রমণ স্বাভাবিকভাবেই অগ্রহণযোগ্য, তাই সীমান্ত হত্যা এবং ধাক্কাধাক্কি সহ সকল অন্যায্য কার্যকলাপ প্রতিরোধের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মনে করা হচ্ছে, এক্ষেত্রেও নিশানা ভারতকেই। অন্যদিএক হাসিনা ইস্যু। 

ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রহমানের দল ভারতের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেবে নাকি কোঠর নীতি অবলম্বন করবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় তারাই। যেখানে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে কোন মাত্রায় রাখবেন তারেক, তা নিয়ে নিশ্চিত নন বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। সেখানে আরও একটি বিষয় বেশ উল্লেখযোগ্য। তা হল বিএনপি'র ইশতেহার। সাম্প্রতিকসময়ে ভারতের দরিদ্র, নারী কল্যাণকর একাধিক প্রকল্প নিয়ে চর্চা। নিরত্রবাচনে একটি নির্ধারক বিষয়ও হয়ে দাঁড়িয়েছি সেটি। এই পরিস্থিতিতে তারিকের দলের একাধিক ইশতেহারের পয়েন্টের দিকে তাকালে, তাতে ভারত-ছাপ খুব একটা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। সেগুলি কী কী-
মহিলাদের জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি বিএনপির ইশতেহারের একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ। ১৭ বছরের নির্বাসন শেষ করে ঢাকায় ফিরে আসা খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান একটি 'ফ্যামিলি কার্ড'-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এর মাধ্যমে মহিলারা প্রায় ২০০০ টাকা নগদ দেবে। এছাড়াও চাল, ডাল, রান্নার তেল এবং নুনের মতো প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীও পেতে পারেন।

এই কর্মসূচিতে প্রাথমিকভাবে ৫০ লক্ষ মহিলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিশেষভাবে নজরে রয়েছেন নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো।

মহিলাদের জন্য এই ধরনের সরাসরি নগদ সহায়তা রাজ্য নির্বাচনে একটি বিজয়ী সূত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তা সে মধ্যপ্রদেশের 'লাডলি বাহনা যোজনা' হোক বা মহারাষ্ট্রের 'লাডকি বাহিন যোজনা'। বাংলাদেশের পূর্ববর্তী নির্বাচনে এই ধরনের মহিলা-কেন্দ্রিক প্রকল্পগুলি খুব একটা আগে দেখা যায়নি।

তাছাড়া, ভারতের মহিলা সমৃদ্ধি যোজনার মতো, বিএনপি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণীর মহিলাদের জন্য একটি ক্ষুদ্র-অর্থায়ন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটা দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং আয় বৃদ্ধির উপর জোর দেবে।

ভারতের 'কিষাণ ক্রেডিট কার্ড'-এর মতো, বিএনপি'কৃষক কার্ড' ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভারতের এই প্রকল্পের মতো, বাংলাদেশের কৃষক কার্ড-ও সাশ্রয়ী মূল্যের এবং নমনীয় ঋণের পাশাপাশি ভর্তুকি এবং কৃষি বিমা প্রদান করবে।

শিক্ষার ক্ষেত্রে, বিএনপি ভারতের 'মধ্যাহ্নভোজ' কর্মসূচিতে মুগ্ধ বলে মনে হচ্ছে। ভারতের ১১.২ লক্ষ সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে প্রতিদিন ১১.৮ কোটিরও বেশি শিশুকে তাজা রান্না করা মধ্যাহ্নভোজ (মিড ডে মিল) সরবরাহ করা হয়। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই ধরণের প্রকল্প চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।