আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক জরুরি কংগ্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বক্তারা সেখানে অভিযোগ করেন, বর্তমান মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন বেড়েছে এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
রেবার্ন হাউস অফিস ভবনে হিন্দুঅ্যাকশন ও কোয়ালিশন অব হিন্দুস অব নর্থ আমেরিকা আয়োজিত এই আলোচনায় শতাধিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কংগ্রেসের স্টাফ, কূটনীতিক, সাংবাদিক, গবেষক এবং প্রবাসী বাংলাদেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা ছিলেন। তারা সকলেই নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন।
পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক মাইকেল রুবিন বলেন, একটি রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের প্রাথমিক সূচক হচ্ছে ধর্মীয় স্বাধীনতার সংকোচন। তাঁর ভাষায়, “ধর্মীয় স্বাধীনতা হল কয়লাখনির ক্যানারি—যখন এটি হারিয়ে যায়, তখন বুঝতে হবে বড় বিপদ আসছে।” তিনি পাকিস্তানের উদাহরণ টেনে বলেন, একসময় সেখানে হিন্দু ও খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী ছিল, যা সময়ের সঙ্গে কমে গেছে।
আলোচনায় উভয় দলের তিনজন কংগ্রেস সদস্য বক্তব্য রাখেন। রিপাবলিকান প্রতিনিধি টম ব্যারেট ধর্মীয় হিংসার নিন্দা জানিয়ে নৈতিক স্পষ্টতার আহ্বান জানান। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সুহাস সুব্রামনিয়াম বলেন, হিন্দুদের ওপর হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রধান রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ায় ভোটকে “অবাধ ও সুষ্ঠু” বলা যায় না। তাঁর মন্তব্য, “কথার চেয়ে কাজই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল ব্রাউনব্যাক এক রেকর্ড করা বার্তায় সতর্ক করেন, সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে। তিনি বলেন, হিংসা অব্যাহত থাকলে হিন্দুরা দেশত্যাগে বাধ্য হবে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করবে।
অংশগ্রহণকারীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিকে জরুরি শুনানি আয়োজনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশকে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের জন্য “বিশেষ চিন্তার দেশ” হিসেবে চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্টদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তোলা হয়। জামায়াতে ইসলামীকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার দাবিও জানানো হয়।
সাংবাদিক শুভ রায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নীরবতার সমালোচনা করে বলেন, “ কোনও দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলকে বাইরে রেখে কোনও নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলা যায় না।” তাঁর মতে, পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকলে দায়মুক্তির সংস্কৃতি জোরদার হয়। সেটাই হয়েছে বাংলাদেশে।
শিক্ষাবিদ, অধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের বক্তব্যে আগস্ট ২০২৪–পরবর্তী বাংলাদেশের চিত্রকে উদ্বেগজনক বলে তুলে ধরা হয়। বক্তারা দাবি করেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে, সমালোচকদের ওপর হিংসা বেড়েছে এবং হিন্দুদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এখানে কতটা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।
