আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলার সদর উপজেলায় একটি গাড়িতে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দিয়ে এক হিন্দু যুবককে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সে দেশের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির নাম রিপন সাহা। বয়স ৩০ বছর। এই ঘটনা এটি বাংলাদেশজুড়ে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসার উদ্বেগজনক ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিপন গোয়ালন্দ মোড়ের করিম পেট্রল পাম্পে স্টেশনে কাজ করতেন। অভিযোগ, শুক্রবার ভোরে গাড়িতে তেল ভরিয়ে জ্বালানির দাম দিতে অস্বীকার করার পর তিনি একটি গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। সেই সময় গাড়িটি তাঁকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে একটি কালো এসইউভি পেট্রল পাম্পে আসে এবং প্রায় ৫,০০০ টাকা (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩,৭১০ টাকা) মূল্যের তেল নেয়। চালক টাকা না দিয়েই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে রিপন গাড়িটি আটকানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি সেই সময় তাঁকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় করিম পেট্রল পাম্পের কর্মীরা জানান, শুক্রবার ভোরে একটি কালো ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি ওই ফিলিং স্টেশন থেকে ৫,০০০ টাকা মূল্যের জ্বালানি নেয়। রিপন টাকা পরিশোধ না করেই গাড়িটি চলে যাওয়ার সময় বাধা দিলে চালক তাঁকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে রাজবাড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ ঘাতক গাড়িটিকে বাজেয়াপ্ত করেছে। কালো এসইউভিটির মালিক আবুল হাশেম ওরফে সুজন (৫৫) এবং তার চালক কামাল হোসেনকে (৪৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাশেম রাজবাড়ি জেলা বিএনপি-র প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ এবং জেলা যুবদলের প্রাক্তন সভাপতি। পেশায় তিনি একজন ঠিকাদার।
২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩১ লক্ষ ৩০ হাজার, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭.৯৫ শতাংশ। চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ (বিএইচবিসিইউসি) এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে যে, সাধারণ নির্বাচনের তারিখ যতই এগিয়ে আসছে, দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে যে, এই হিংসার উদ্দেশ্য হল সংখ্যালঘু ভোটারদের তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখা। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, তারা শুধু ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেই সাম্প্রদায়িক হিংসার ৫১টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে।
















