আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভিড় জমল সমুদ্রে। সেখানে ভেসে এসেছে এক অদ্ভুত দর্শন প্রাণী। যা আগে কখনও দেখেনি তারা। তাই দেখতে ভিড় জমিয়েছে সকলে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার পোর্ট এলিয়টের হর্সশু উপসাগরের উপকূলে ভেসে এসেছে সে। দাম উঠল ২১ হাজার টাকা প্রতি কেজিতে।
প্রথম এই বিকট আকৃতির প্রাণীটিকে দেখতে পান, ভিকি ইভান্স নামে এক বাসিন্দা। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রাণীটির ছবি শেয়ার করে জানিয়েছেন, প্রথম দেখলাম এরকম ছবি। প্রকৃতি সবসময়ই নতুন জিনিস হাজির করে আমাদের সামনে।
পোস্ট করা ছবিতে দেখা যায়, প্রাণীটি স্প্যাগাটি বা চুলের বিনুনির মত দেখতে। মাথা বা মুখ জেল জাতীয় পদার্থ দিয়ে ভর্তি। একসঙ্গে জড়াজড়ি করে রয়েছে। একগুচ্ছ ভেসে এসেছে পাড়ে। মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই প্রাণীটি একটি ক্রাস্টেসিয়ান প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। নাম হংস বার্নাকল। এই প্রজাতির প্রাণীগুলি সাধারণত, ভাসমান ধ্বংসাবশেষ বা সামুদ্রিক ভেসে থাকা কাঠামোকে আঁকড়ে থাকে। দেখা না গেলেও এদের খুব ছোটো জোড়া পা রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ অস্ট্রেলিয়া মেরিন ইকোলজিস্ট ডঃ জো ডাবলডে বারনাকল জানিয়েছেন, এরা তীরে ভেসে থাকতে পারে অনেকক্ষণ পর্যন্ত। কিন্তু কেন এই অদ্ভুত নাম হংস বার্নাকল? বলা হচ্ছে এই নামের শিকড় রয়েছে মধ্যযুগে। তখন মনে করা হত, পরিযায়ী পাখিরা ডিম পেড়ে রেখে যাচ্ছে সমুদ্রে। সেই বাচ্চা ফুটে সমুদ্রে উঠে আসছে।
এই প্রজাতির সমগোত্রীয় বলা যায় ঝিনুককে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরা গলদা চিংড়ি এবং কাঁকড়ার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। এটি যে প্রজাতির সেই ক্রাস্টেসিয়ান প্রজাতি স্প্যানিশ কিংবা পর্তুগিজ ভাষায় পারসিবেস নামেও পরিচিত। ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার বেশ কিছু অংশে এটিকে রান্না করে খাওয়া হয়। জানা গিয়েছে, নিউ ইয়র্কের এক গ্রামের রেস্টুরেন্টে খাবারের মেনুতে রয়েছে এই বার্নাকলস। এই বিলাসবহুল বার্নাকলের দাম রয়েছে প্রতি পাউন্ড ১২৫ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১০ হাজার ৫১০ টাকা। পরিচিত সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামুদ্রিক খাবার হিসেবে।
