আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে ইরানে। এবার নিজেদের আকাশপথ সাময়িক বন্ধ করে দিল ইরান। ইরানের এয়ারস্পেস বন্ধ হওয়ায় বহু বিমান চলাচলই বন্ধ হয়ে গেল। 


বুধবার বেশি রাতের দিকে প্রথমে প্রায় দু’ঘণ্টার জন্য আকাশসীমা বন্ধ করেছিল ইরান। পরে তা আরও বৃদ্ধি করা হয়। যদিও ইরানে যাতায়াতের জন্য যে আন্তর্জাতিক বিমানগুলির নির্দিষ্ট অনুমতি রয়েছে, সেগুলি ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে।


কেন হঠাৎ আকাশসীমা বন্ধ করা হল, তার ব্যাখ্যা দেয়নি ইরান প্রশাসন। তবে কি মার্কিন হামলার আশঙ্কাতেই এই সিদ্ধান্ত? সূত্রের খবর, বিমানে হামলার আশঙ্কায় আকাশপথ বন্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র জরুরি আন্তর্জাতিক বিমানকে অনুমতিসাপেক্ষে ওড়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।


এদিকে, ইরানের আকাশসীমা আচমকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে ভারতীয় উড়ান সংস্থাগুলির আন্তর্জাতিক পরিষেবাতেও। এয়ার ইন্ডিয়া ইতিমধ্যে একটি বিবৃতি জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, ইরানের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে ইরানের উপর দিয়ে যে বিমানগুলির যাওয়ার কথা ছিল, সেগুলিকে বিকল্পপথে চলাচল করতে হচ্ছে। এর ফলে বিমানগুলি গন্তব্যে পৌঁছোতে কিছুটা দেরি হতে পারে বলে যাত্রীদের আগাম জানিয়ে দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। যে বিমানগুলিকে এই মুহূর্তে বিকল্প পথে ওড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, সেগুলিকে আপাতত বাতিল করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে উড়ান সংস্থা। ইরানের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইন্ডিগোও। তারাও জানিয়েছে, ইরানের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা প্রভাবিত হতে পারে। স্পাইসজেটও বিবৃতি দিয়ে একই কথা জানিয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন সাইবার হামলার আশঙ্কায় বন্ধ করে দেওয়া সরকারি অফিসের ইন্টারনেট পরিষেবা। এর জেরেও সে দেশে অসামরিক বিমান চলাচলে বাধা তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে ইরান ছাড়তে ভারতীয় নাগরিকদের নির্দেশ দিয়েছে তেহরানের দূতাবাস। ইরান ছাড়ার জন্য জরুরি নথিপত্রও হাতের কাছে রাখতে বলা হয়েছে ভারতীয়দের। যে কোনও সমস্যায় তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগযোগ করতেও বলা হয়েছে ওই নির্দেশিকায়। হেল্পলাইন নম্বর এবং ইমেলও দেওয়া হয়েছে দূতাবাসের তরফ থেকে। 


ইরানে হামলা চালাতে পারে মার্কিন সেনা। কিছুদিন ধরেই এই সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। ইরানে আন্দোলনকারীদের মৃত্যুর সংখ্যা দুই হাজার পার হতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের যুবদের বলেছেন তারা যেন আন্দোলন না থামায়, সাহায্য আসছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই আমেরিকা সেনা সরাতে শুরু করেছে।


ইরানও প্রতিবেশী দেশ তেহরানে ঢুকে আমেরিকার ঘাঁটিতে হামলার হুমকি দিয়েছে। এদিকে, ইরাক থেকে কুর্দিশ বাহিনীও ইরানে ঢুকতে চাইছে, এমনটাই রয়টার্স সূত্রে খবর। শেষ খবরে জানা গেছে, পাঁচ ঘণ্টা অবধি আকাশসীমা বন্ধ রাখে ইরান। 

 

 


প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আমেরিকার সেনাঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল কাতারকের আল উদেইদ ঘাঁটি। এই বিমানঘাঁটিকেও ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনী। বুধবার সন্ধেয় খবর ছড়ায়, বেশ কিছু কর্মীকে কাতারের ওই ঘাঁটি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। কারণ, গত বছরের জুনে ইরানে মার্কিন হানার আগেও একই রকম নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়েও কাতারের বিমানঘাঁটি থেকে বেশ কিছু অসামরিক কর্মী এবং পরিবারকে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল আমেরিকা। আর ঠিক তার পরেই ইরানের তিন পরমাণুকেন্দ্রে বিমান হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী।