আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতিতে এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের ঘোষণা করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রধান ধাতুগুলোর ওপর শুল্ক ব্যাপক হারে বাড়িয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি মোকাবিলার দোহাই দিয়ে আমদানিকৃত পেটেন্টযুক্ত ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের একটি পৃথক পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। এই জোড়া পদক্ষেপ বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং তামা আমদানির ক্ষেত্রে এখন থেকে অনেক বেশি মাশুল গুনতে হবে। প্রাথমিক ধাতু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ এবং নির্দিষ্ট কিছু ডেরিভেটিভ পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া শুল্ক ফাঁকি বা পণ্যের দাম কম দেখিয়ে আমদানির প্রবণতা ঠেকাতে এখন থেকে পণ্যের পূর্ণ বাজার মূল্যের ওপর ভিত্তি করে শুল্ক গণনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রেড এক্সপানশন অ্যাক্টের ২২৩ ধারা ব্যবহার করে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আমদানি নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেয়। সরকারের লক্ষ্য হল দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা অন্তত ৮০ শতাংশ বাড়ানো। আগামী ৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়মে আরও বলা হয়েছে যে, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এই তালিকার আওতা আরও বাড়ানো হতে পারে।
ধাতব পণ্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে ট্রাম্প প্রশাসন পেটেন্টযুক্ত ওষুধ এবং এর কাঁচামালের (এপিআই) ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, জীবনরক্ষাকারী ওষুধের জন্য বিদেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা যেকোনও সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। তবে যেসব কোম্পানি তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে আনবে, তারা শুরুতে ২০ শতাংশ শুল্কের সুবিধা পাবে, যা চার বছর পর বেড়ে ১০০ শতাংশ হবে।
অবশ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সুইজারল্যান্ডের মতো ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর জন্য এই শুল্কের হার কিছুটা কমিয়ে ১৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিরল রোগের ওষুধ বা জিন থেরাপির মতো বিশেষ ক্ষেত্রগুলোকে আপাতত এই কড়াকড়ি থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। জেনেরিক ওষুধ বা সাধারণ ওষুধের ক্ষেত্রেও এখনই কোনও বাড়তি চাপ দেওয়া হচ্ছে না। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হল দেশের মাটিতেই ওষুধ উৎপাদন কারখানা গড়ে তোলা এবং বেশ কিছু কোম্পানি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ শুরু করেছে।
ওষুধের ওপর এই নতুন শুল্ক নীতি ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। ওয়াশিংটন দাবি করছে যে এতে সাধারণ মানুষের ওপর ওষুধের দামের চাপ পড়বে না, তবে ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো—যারা যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ ও কাঁচামাল রপ্তানি করে—তারা এই সিদ্ধান্তে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে পারে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই কড়া বাণিজ্যিক অবস্থান বিশ্ববাজারে এক নতুন অস্থিরতা ও প্রতিযোগিতার আভাস দিচ্ছে।














