আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্রিটিশ পর্ন তারকা বনি ব্লু—যার আসল নাম টিয়া বিলিঙ্গার—সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি গর্ভবতী। ঘটনাটি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে, বিশেষত কারণ তিনি দাবি করেছেন, গত বছর প্রায় ৪০০ জন পুরুষের সঙ্গে অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্কের পর এই গর্ভধারণ ঘটেছে। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয়, এই খবর তিনি নিজেই কিছুটা বিস্মিত ভঙ্গিতে জানিয়েছেন।
২৬ বছর বয়সি এই ব্রিটিশ তরুণী প্রথমে জানান, স্পেনের জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ টেনেরিফে অবস্থানকালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তীব্র মাইগ্রেন, কিছু খাবারের প্রতি অরুচি এবং সার্বিক দুর্বলতায় তিনি প্রায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন। পরে ইংল্যান্ডে ফিরে এসেও অসুস্থতা কাটছিল না। সেই কারণেই তিনি বাড়িতে একটি প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট—যার ব্র্যান্ড ছিল ‘Clearblue’—ব্যবহার করেন।
ক্যামেরার সামনে টেস্ট কিট তুলে ধরে তিনি বলেন, “গাইজ… আমি নিশ্চিতভাবেই গর্ভবতী। পুরোপুরি গর্ভবতী। এখন আমাকে বুঝতে হবে, এরপর কী করব। সত্যি বলতে আমি ঠিক জানি না।”
কয়েকদিন পর তিনি একটি বেসরকারি ক্লিনিকে আল্ট্রাসাউন্ড করান। সেখানে স্ক্রিনে ভ্রূণের উপস্থিতি দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। “ওটা কি বাচ্চা? ব্যাপারটা তো সত্যিই অবিশ্বাস্য,”—এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
&t=20sতবে অনেকের মতে, এত সংখ্যক অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্কের পর গর্ভধারণ ‘অবিশ্বাস্য’ নয়, বরং সম্ভাব্যই ছিল। যদিও বনি ব্লু আগে দাবি করেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০২৫ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি মা হতে চান, কিন্তু স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের অবস্থায় নেই। সাম্প্রতিক ঘটনার পর সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও একটি বিতর্কিত তথ্য সামনে এসেছে—তার তথাকথিত ‘রেকর্ড-সেটিং’ যৌন ম্যারাথনের সময় তিনি অংশগ্রহণকারীদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন বলে জানা গেছে। ফলে সন্তানের জৈবিক পিতাকে শনাক্ত করতে ভবিষ্যতে ডিএনএ পরীক্ষার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পুরো ঘটনাটি একদিকে যেমন সোশ্যাল মিডিয়ায় কৌতুক ও সমালোচনার ঝড় তুলেছে, তেমনি যৌনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্ক সবসময়ই অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ ও যৌনবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
এই মুহূর্তে বনি ব্লু কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে তিনি নিজেই জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে তিনি পরামর্শ নিচ্ছেন। ঘটনাটি এখন সোশ্যাল মিডিয়া ও ট্যাবলয়েড মহলে অন্যতম আলোচিত বিষয়।
