আজকাল ওয়েবডেস্ক: যেকোনও মুহূর্তে মধ্য এশিয়ার সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে পাকিস্তান। ঘোর আশঙ্কায় ইসলামাবাদ। এসবের মধ্যেই ভারত বিরোধী উস্কানিতে মত্ত ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত। আব্দুল বাসিতের চাঁচাছোলা মন্তব্য, কোনও বিদেশি শক্তির আক্রমণের মুখে পাকিস্তানের উচিত ভারতে হামলা চালানো।
প্রাক্তন পাক রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সরাসরি তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইন্ধনের অভিযোগ তুলছেন নেজিজেনরা।
মধ্য প্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাথকার দিচ্ছিলেন বসিত। সেই সময়েই তিনি বলেন, “যদি আমেরিকা পাকিস্তানকে আক্রমণ করে, তবে আমরা এক মুহূর্তও চিন্তা না করে ভারতকে - বিশেষ করে মুম্বই ও নয়াদিল্লিকে - আক্রমণ করব। আমরা বসে থাকব না; এরপর যা হওয়ার হবে, তা পরে দেখা যাবে।”
যদিও বাসিত বারবার এই পরিস্থিতিকে ‘সম্ভব নয়’ বলে বর্ণনা করেছেন, এমনকী একে ‘সম্ভবের ঊর্ধ্বে’ বলেও অভিহিত করেছেন - তবুও তিনি বারবার সেই একই যুক্তির অবতারণা করেছেন। প্রাক্তন পাক রাষ্ট্রদূত বলেন, “যদি কেউ আমাদের দিকে কুদৃষ্টিতে তাকায়, তবে পাকিস্তানের সামনে ভারত আক্রমণ করা ছাড়া আর কোনও বিকল্প থাকবে না। পাকিস্তান ভারতের যেখানে খুশি আক্রমণ করতে পারে। তবে আমরা চাই না এমনটা ঘটুক; ভারতও নিশ্চয়ই এমনটা চায় না।”
বাসিতের এই মন্তব্য, বিশেষ করে মুম্বই ও নয়াদিল্লির নাম উল্লেখ করা অংশটি দ্রুত ভাইরাল হয়। এ ধরনের বাগাড়ম্বরের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিতর্কের জন্ম দেয়।
ভারতের অবস্থান বাসিতের কাছে মোটেও অপরিচিত নয়। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়কালে দুই দেশের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত জটিল।
প্রাক্তন পাক রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের গুরুত্ব বা প্রভাব আরও বেড়ে গিয়েছে তাঁর অতীত ভূমিকার কারণে। কারণ দায়িত্ব পালনকালে ভারতের সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল।
পাকিস্তানের সঙ্গে মধ্য প্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িত বিভিন্ন পক্ষের সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক তলানীতে। এই প্রেক্ষাপটে বাসিতের মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
আফগান কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে যে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী কাবুল, কান্দাহার ও পাক্তিকার মতো এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। তালিবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেছেন যে, একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র-সহ অসামরিক জায়গাতেও এই হামলা চালানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ব্যাপক হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হলেও, স্বাধীন বা নিরপেক্ষ সূত্র থেকে এর পূর্ণাঙ্গ সত্যতা যাচাই করা এখনও সম্ভব হয়নি।
অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এমনিতেই তুঙ্গে। তখন কাল্পনিক বা অনুমানভিত্তিক পরিস্থিতিপ প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে মন্তব্য একটি বৃহত্তর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আব্দুল বাসিতের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বাসিতের এই মন্তব্যটি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
