আজকাল ওয়েবডেস্ক: ওয়াশিংটন ডিসিতে 'বোর্ড অব পিস'-এর উদ্বোধনী সভায় ফের ভার-পাক যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা টেনে আনলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তুলে ধরলেন উত্তেজনা প্রশমনে তাঁর ভূমিকা। ট্রাম্প দাবি করেছেন, দুই দেশের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিতেই সম্ভাব্য পারমাণবিক যুদ্ধ রুখে দিয়েছিলেন। এতে প্রায় আড়াই কোটি মানুষের জীবন বেঁচেছিল। এছাড়াও এক ধাপ এগিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ১১টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন গত বছরের মে মাসে ভারত-পাক উত্তেজনার সময়ে সাতটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছিল।
ভারত অবশ্য আগাগোড়াই, গত বছরের মে মাসে ভারত-পাক সামরিক সংঘর্ষের সময় তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বা বিমান ধ্বংস সম্পর্কে সমস্ত দাবি ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করেছে।
ট্রাম্প যা বললেন:
অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গে 'বোর্ড অফ পিস' ইভেন্টে যোগ দিয়েছিলেনপাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ট্রাম্প, তাঁর তথাকথিত মধ্যস্থতার করার ক্ষমতা জাহির করার সময়ে শেহবাজ শরিফকে উঠে দাঁড়াতে বলেন। দৃশ্যতই তখন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েমন পাক প্রদানমন্ত্রী।
ট্রাম্প বলেন, "পাকিস্তান এবং ভারত। এটা ছিল একটা বিরাট ব্যাপার। আমার মনে হয় আপনার (শরিফের) উঠে দাঁড়ানো উচিত। দয়া করে এক সেকেন্ডের জন্য দাঁড়ান। পাকিস্তান এবং ভারত। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।" এরপরই শরিফ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নয়াদিল্লি এবং ইসলামাবাদের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করে "আড়াই কোটি মানুষের জীবন" বাঁচিয়েছেন।
পাক প্রধানমন্ত্রীর দাবিতে যারপরনাই খুশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শেহবাজ শরিফকে উদ্দেস্য করে তিনি বলেন, "আপনি সেই খুব ভাল বক্তব্য রেকেছেন। আমি বলেছিলাম আড়াই কোটি জীবন, আসলে আরও অনেক বেশি হতে পারত, কিন্তু এটা সত্যিই একটি সুন্দর জিনিস ছিল... সেই যুদ্ধের মাত্রা তীব্র ছিল। বিমান গুলি করে ধ্বংস করা হচ্ছিল, এবং এটা ছিল পাকিস্তান এবং ভারত।"
ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি তার শুল্ক নীতিকে শান্তি চুক্তির মধ্যস্থতা হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং বলেছেন, "আমি মোদি ও শরিফ, দু'জনের সঙ্গেই ফোনে কথা বলেছি। আমি তাঁদের আগে থেকেই কিছুটা চিনতাম। আমি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে খুব ভালো করেই চিনতাম...আমি তাঁদের ফোন করে বলেছিলাম, শোনো, যদি তোমরা এই সমস্যার সমাধান না করো, তাহলে আমি তোমাদের দু'জনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করছি না...আর হঠাৎ করেই এখন আমরা একটি চুক্তি করে ফেলেছি।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট, "আমি বলেছিলাম, যদি তোমরা যুদ্ধ করো, তাহলে আমি তোমাদের দেশের উপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করব। তাঁরা উভয়ই যুদ্ধ করতে চেয়েছিল। কিন্তু যখন অর্থের কথা আসে, তখন অর্থের মতো কিছুই হয় না। যখন প্রচুর অর্থ লোকসানের কথা আসে, তখন তাঁরা বলেন, আমার মনে হয় আমরা যুদ্ধ করতে চাই না...১১টি যুদ্ধজেট গুলি করে ধ্বংস করা হয়েছে। সেগুলো খুবই ব্যয়বহুল জেট।"
ট্রাম্পের বারবার দাবি এবং ভারতের অবস্থান
ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে, হোয়াইট হাউসে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেরই আটটি যুদ্ধ বন্ধ করেছেন। গত বছরের ১০ মে থেকে তিনি ৮০ বারেরও বেশি ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করেছেন। তবে ভারত ধারাবাহিকভাবে বলে আসছে যে, দুই সেনাবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) এর মধ্যে সরাসরি আলোচনার পর পাকিস্তানের সঙ্গে শত্রুতা বন্ধের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
ভারত গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার প্রতিশোধ নিতে, ৭ মে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালায়। এই অভিয়ানে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এরপর পাল্টা ড্রোন হামলা চালায় পাকস্তানও। যা প্রতিহত করেছিল ভারতীয় বাহিনী।
