আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালের ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। এবার দিল্লির ভারত মণ্ডপমে শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীন অর্ধনগ্ন হয়ে প্রতিবাদে সামিল হলেন যুব কংগ্রেসের একদল কর্মী।
অভিযোগ উঠেছে, সামিটে ঢুকে তাঁরা জামা খুলে খালি গায়ে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ জন যুব কংগ্রেস কর্মী এই বিক্ষোভে অংশ নেন।
তাঁদের মধ্যে ৪-৫ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা কিউআর-কোডযুক্ত পাস ব্যবহার করে অনুষ্ঠানের ভেন্যুতে প্রবেশ করেন। পরে আচমকা প্রতিবাদ শুরু করেন।
তড়িঘড়ি পুলিশের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং বিক্ষোভকারী কর্মীদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের তিলক মার্গ থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
জাতীয় রাজধানীতে উচ্চপর্যায়ের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তা বলয় জারি ছিল। নিরাপত্তা বজায় রেখে অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য কঠোর প্রোটোকলও চালু ছিল বলে প্রশাসনের দাবি।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দলের আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স হ্যান্ডেলে এই ঘটনাকে ‘জাতীয় লজ্জা’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি লেখেন, ‘যখন ভারত বিশ্বমঞ্চে এআই সম্মেলনের আয়োজন করছে এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিশ্বের অন্যান্য হেভিওয়েট দেশগুলির সঙ্গে সেই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার পথ বেছে নিয়েছে। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কর্মীরা অর্ধনগ্ন হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারত যখন বিশ্বের মধ্যে প্রযুক্তির শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে, তখন এই ধরনের আচরণ দেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি করে। রাজনৈতিক বিরোধিতা গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করা নয়।’
অন্যদিকে, এই ঘটনার পর তৈরি হওয়া যাবতীয় সমালোচনার জবাব দিয়েছেন যুব কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি উদয় ভানু চিব।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা এআই সম্মেলনে গিয়ে ‘প্রধানমন্ত্রী আপস করেছেন’ স্লোগান দিয়েছেন। এই ক্ষোভ শুধু যুব কংগ্রেসের নয়, দেশের প্রতিটি বেকার যুবকের। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তি কৃষক ও সাধারণ মানুষের ক্ষতি করবে। আমরা তাঁদের হয়ে কণ্ঠস্বর তুলেছি। আমাদের দেশে গণতন্ত্র আছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে।’
এই ঘটনার জেরে দিল্লি পুলিশ এফআইআর দায়ের করতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
