আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত এয়ার ট্যাক্সি উন্মোচিত হল ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে। দিল্লিতে ভারত মণ্ডপমে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট শুরু হয়েছে সোমবার থেকে।

এক সময় যে প্রযুক্তি শুধুমাত্র কল্পবিজ্ঞানেই শোনা যেত তা এখন বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। কারণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম এয়ার ট্যাক্সি পরিষেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত।

জানা গিয়েছে, এই এয়ার ট্যাক্সির উড়ান এবং অবতরণে রানওয়েরও প্রয়োজন পড়বে না। এটি তৈরি করেছে দ্য ই-প্লেন কোম্পানি, তাদের সহযোগিতা করেছে আইআইটি মাদ্রাজ।

যানজটপূর্ণ শহরে ট্রাফিক জ্যাম কমাতেই এই প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে। তবে প্রচলিত বিমানের মতো রানওয়ে প্রয়োজন হয় না এই এয়ার ট্যাক্সির। এটি সরাসরি উল্লম্বভাবে উড়তে ও নামতে পারে, ফলে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যবহার করা সহজ হবে।

নির্মাণকারী সংস্থার দাবি, কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউবি সিটি পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কিলোমিটার পথ সড়কপথে যেতে সময় লাগে প্রায় দু’ঘণ্টা।

ভাড়া লাগে প্রায় ১,০০০ টাকা। কিন্তু এয়ার ট্যাক্সিতে এই একই দূরত্ব মাত্র আট মিনিটে অতিক্রম করা সম্ভব হবে। যার ভাড়া পড়বে প্রায় ১,৭০০ টাকা। এই উড়োজাহাজের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, একবার চার্জে একাধিক স্থানে নামা সম্ভব।

প্রতিবার অবতরণের পর আলাদা করে চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। হেলিকপ্টার বা বিমানের তুলনায় এই এয়ার ট্যাক্সিতে অনেক কম শব্দ হবে। শব্দের মাত্রা ১২০ ডেসিবেলের নিচে থাকবে, ফলে অনেক সময় ওপর দিয়ে এয়ার ট্যাক্সি উড়ে গেলেও তা টের নাও পাওয়া যেতে পারে।

সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা বিক্কল্প মিত্তল জানান, জ্বালানির সাহায্যে চলা হেলিকপ্টারের তুলনায় ব্যাটারিচালিত এই উড়োজাহাজ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে অনেক কম খরচ হবে।

মিত্তল জানান, উড়োজাহাজের কাঠামো, প্রপেলার ও বডি সম্পূর্ণ ভারতে তৈরি হয়েছে আইআইটি মাদ্রাজের কারখানায়। যদিও চিপ ও মোটরের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান দেশীয় নকশায় তৈরি হলেও উৎপাদন হয়েছে বিদেশে।

মিত্তলের দাবি, ইউরোপ ও আমেরিকার বহু সংস্থা একই ধরনের প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা করলেও নিজেদের দেশে অনুমোদন পেতে সমস্যায় পড়েছে। কিন্তু ভারতে এই প্রকল্প ইতিমধ্যেই অনুমোদন পেয়েছে ডিজিসিএ-এর কাছ থেকে।

চূড়ান্ত মডেল প্রস্তুত হলেই নিয়ন্ত্রক সংস্থার তত্ত্বাবধানে পরীক্ষামূলক উড়ান শুরু হবে। প্রথমে ২০২৭ সালে, সম্ভবত সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে পরিষেবা চালু হবে বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, পুনে, মুম্বই ও আহমেদাবাদে। এরপর ধাপে ধাপে দেশজুড়ে বাণিজ্যিক এয়ার ট্যাক্সি চালু করা হবে।

বর্তমান প্রোটোটাইপে পাইলটসহ তিনজন বসার ব্যবস্থা রয়েছে। ভবিষ্যতে ১৯ আসনের বড় মডেল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে সংস্থার তরফে।