আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রেমিক ভিন্ন জাতের। নিষেধ সত্ত্বেও প্রেমিকের সহ্গে মেলামেশা বন্ধ করেনি মেয়ে। উল্টে সেই যুবককেই বিয়ে করার সাহস দেখায়। উপায় না দেখে তাই মাথায় গুলি করে প্রেমিক যুবককে খুন করে দেয় মেয়ের বাড়ির লোকেরা। কিন্তু, তাতেও মেয়ের মনে ভয় ধরানো যায়নি। শেষযাত্রায় উপস্থিত হয়ে নিথর প্রেমিকের হাত দিয়ে নিজের সিঁথি সিঁদুরে রাঙিয়ে তোলেন যুবতী। দাবি করে তাঁদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। প্রেমিকের পরিবারকে প্রতিশ্রুতি দেন, মৃতের স্ত্রী হিসেবে বাকি জীবন সে শ্বশুড়বাড়িতেই থাকবে। শেষে বলেন, "আমাদের ভালোবাসা জিতেছে, এমনকী সক্ষমের (প্রেমিকের নাম) মৃত্যুতেও আমার বাবা এবং ভাইয়েরা হেরে গিয়েছে।"

ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের নান্দেদের। যুবতী আঁচল ভালবাসতেন সক্ষম তাতেকে। তাঁদের জাতের মিল ছিল না। ফলে মেয়ের বাড়িতে এই মেলামেশা নিয়ে অমত ছিল। রোজ ঝামেলা হত। মেয়েকে অন্যত্র বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হত। তাই যুবতী প্রেমিককে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। এতেই আগুনে ঘি পড়ে।

তিন বছরের সম্পর্ক ভাঙতে মরিয়া হয়ে ওঠে মেয়ের বাড়ির লোকেরা। সক্ষমকে বাড়ির কাছে ডেকে পাঠায় আঁচলের বাবা, ভাইয়েরা। গত বৃহস্পতিবার সক্ষমকে মারধর করে, মাথায় গুলি করে খুন করা হয়। পরে পাথর দিয়ে মাথা থেঁথলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।

শোকের পরিবেশেই শেষকৃত্য চলাকালীন, আঁচল সক্ষমের বাড়িতে পৌঁছান। নিথর প্রেমিকের হাত দিয়ে নিজের সিঁথি সিঁদুরে রাঙিয়ে তোলেন যুবতী। এরপর সে সক্ষমের বিধবা স্ত্রী হিসেবে বাকি জীবন শ্বশুড়বাড়িতে থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানান। সক্ষমের খুনিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করার সময় বলেন, "আমাদের ভালোবাসা জিতেছে, এমনকী সক্ষমের (প্রেমিকের নাম) মৃত্যুতেও আমার বাবা এবং ভাইয়েরা হেরে গিয়েছে।" জোর গলায় আঁচল বলতে থাকেন, তিনি বিয়ে করেছেন কারণ সক্ষম মারা গেলেও তাঁদের ভালোবাসা এখনও বেঁচে আছে।

পুলিশ বিভিন্ন ধারায় ছয় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।