আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাত্র কয়েক ঘণ্টার তফাৎ। প্রথমে কন্যাসন্তান, পরে পুত্রসন্তানের মর্মান্তিক পরিণতি। বিষ খাইয়ে পরপর সন্তানদের খুন মায়ের। স্বামীর অভিযোগের পরেই এলাকা জুড়ে তুমুল শোরগোল। ঘটনার বিবরণে আঁতকে উঠেছে পুলিশও। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে পাঞ্জাবের ভাতিন্দা জেলায়। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, দুই সন্তানকে বিষ খাইয়ে খুনের অভিযোগে এক মহিলা ও তাঁর বোনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুই নাবালক সন্তানের খুনের ঘটনাটি ঘিরে থানায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বুধ সিং নামের এক যুবক। এই অভিযোগের ভিত্তিতে জেসসি কৌর নামের গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, বিষ খাইয়ে দিন কয়েক আগে আট বছরের মেয়েকে খুন করেছিলেন জেসসি। গতকাল শুক্রবার ছ'বছরের ছেলেকেও একইভাবে খুন করেন। এরপরই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বুধ সিং। তিনি জানিয়েছেন, পরিকল্পনামাফিক দুই সন্তানকে খুন করেছেন স্ত্রী। 

দীর্ঘ পুলিশি জেরায় জেসসি স্বীকার করেছেন, খাবারের সঙ্গে ইঁদুর মারার বিষ মিশিয়ে দুই সন্তানকে খুন করেছেন তিনি। এই ঘটনায় তাঁকে সাহায্য করেছিলেন বোন মোতি কৌর ও স্থানীয় এক যুবক লখি সিং। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্তের সঙ্গে তাঁর বোনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আরও এক অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। কী কারণে নির্মমভাবে দুই সন্তানকে খুন করলেন, তা ঘিরেও তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। 

গত বছর নভেম্বরে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। সদ্যোজাত সন্তানের জন্মের কয়েক ঘণ্টা পর মায়ের হাতেই মর্মান্তিক পরিণতি। হাসপাতালের মধ্যে সদ্যোজাত সন্তানকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। সন্তানের জন্মের কয়েক ঘণ্টা পরেই, শ্বাসরোধ করে তাকে খুন করেছে মা। যে ঘটনায় শিউরে উঠেছেন সকলে। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের চুরু জেলায়। শনিবার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ৪০ বছর বয়সি গুড্ডু দেবী নামের এক যুবতী চুরু জেলার সরকারি হাসপাতালে পঞ্চম সন্তানের জন্ম দিয়েছিল। সদ্যোজাতর মুখ দেখে বাড়ির আত্মীয়স্বজন হাসপাতালের অন্য ওয়ার্ডে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সেই ফাঁকেই সদ্যোজাত সন্তানের শ্বাসরোধ করে খুন করে মা। 

পুলিশ আধিকারিক সুখরাম চোটিয়া জানিয়েছেন, আর্থিক অনটনে জেরবার ছিল গুড্ডু দেবী। সংসারের খরচ চালানোর মতো সামর্থ্য ছিল না তার। যা ঘিরে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ছিল সে। পাশাপাশি গুড্ডু দেবীর স্বামী তারাচাঁদ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী। পঞ্চম সন্তানের জন্মের পরেই আত্মীয়স্বজনদের জানিয়েছিল, আরেকটি সন্তানের দেখভাল করার মতো আর্থিক পরিস্থিতি নেই। 

শুক্রবার সকালে সদ্যোজাতকে দেখতে যান গুড্ডুর বোন ময়না দেবী। তখনই খেয়াল করেন, সদ্যোজাত নড়াচড়া করছে না। কোনও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন চোখে পড়ে। তড়িঘড়ি করে চিকিৎসকদের খবর দেন তিনি। সদ্যোজাতর ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এরপরেই ঘাতক মায়ের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেই গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া শুরু করবে তারা।