আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতজুড়ে গত কয়েকদিন প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। মুম্বই ভেসে গিয়েছে। কিন্তু আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আবহাওয়ার বদল ঘটবে। বিরতিতে যাবে বৃষ্টি। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন যে, দেশের বিশাল অংশজুড়ে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করবে। ফলে অনেক এলাকায় আকাশ পরিষ্কার থাকলেও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হবে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে টানা নয় দিন ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ১২৬ বছরের মধ্যে পঞ্চম শুষ্কতম জুন মাস পার করার পর, বৃষ্টির এই তীব্রতা বর্ষণের সামগ্রিক পরিস্থিতি উন্নত করতে সহায়তা করেছে।

সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও স্বস্তি
ভারতে জুন মাস তুলনামূলকভাবে শুষ্ক কাটলেও এরপরই বৃষ্টিপাত শুরু হয়। দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যার ফলে জল জমা, যানজট যেমন হয়েছে, তেমনই রাস্তায় রাস্তায় গাছ উপড়ে পড়েছে।

মুম্বই ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। কোনও কোনও জায়গায়  জুলাই মাসের প্রত্যাশিত মোট বৃষ্টিপাতের সিংহভাগই মাত্র এই কয়েক দিনের মধ্যে হয়েছে।

হঠাৎ বন্যা (ফ্ল্যাশ ফ্লাড), পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং বিমান ও ট্রেন চলাচলে বিলম্বের কারণে উত্তর, পশ্চিম ও মধ্য ভারতের জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।

ভারতের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রধান উৎস যে মৌসুমি বায়ু, তা শুরুতে কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প টেনে আনা নিম্নচাপ বলয়ের প্রভাবে তা পুনরায় প্রবল বেগে সক্রিয় হয়ে ওঠে। সহজ কথায়, অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান কোটি কোটি মানুষের জন্য বর্ষা তার দু'হাত উজার করে   হাজির হয়েছিল।

কিন্তু আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, বর্ষার এই অতি-সক্রিয়তা খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না।

কোন কোন এলাকায় শুষ্ক আবহাওয়া দেখা দেবে?
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন যে, ১০ জুলাই থেকে মৌসুমি বায়ুর বলয়টি হিমালয়ের পাদদেশের দিকে সরে যেতে শুরু করেছে। এই বলয় সরে যাওয়ার ফলে আগামী ৫-৭ দিন পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক বাতাস দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করবে। শুষ্ক বাতাসের এই প্রবাহ বিভিন্ন অঞ্চলের ভাল বৃষ্টিপাতের ধারাকে থামাবে এবং মৌসুমি বায়ুকে ধীরগতির করে দেবে।

যেসব এলাকায় খুব কম বৃষ্টিপাত বা একেবারেই বৃষ্টি না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং তেলেঙ্গানা।

এসব এলাকায় মূলত শুষ্ক আবহাওয়া এবং অত্যন্ত আর্দ্র ও অস্বস্তিকর পরিবেশ থাকবে। বাতাসে তাপ ও ​​আর্দ্রতার সংমিশ্রণের ফলে অনুভূত তাপমাত্রা  ৪৫-৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। আবার, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ সরে যাওয়ার ফলে উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

আইএমডি-র পূর্বাভাস কি শেষ পর্যন্ত সত্য হবে?
আইএমডি আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিল যে, জুলাই মাসে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হবে। যা দীর্ঘমেয়াদী গড়ের প্রায় ৯৪ শতাংশের সমান।
বৃষ্টিপাতের এই সাময়িক বিরতি সেই পূর্বাভাসেরই প্রতিফলন এবং এর ফলে বর্ষার বৃষ্টিপাতের মোট পরিমাণ আবারও ঘাটতির মুখে পড়তে পারে।

বর্ষায় বৃষ্টির সংক্ষিপ্ত বিরতি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়েই এই বিরতির ফলে ধান-সহ সদ্য রোপণ করা খরিফ ফসলের জন্য য়থেষ্ট উদ্বেগের। কারণ এসব ফসলের জন্য নিয়মিত আর্দ্রতা প্রয়োজন। সেচ-সুবিধাবিহীন কৃষকদের সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে যদি এই শুষ্ক আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হয়।

জুলাইয়ের শেষের দিকে আবারও বৃষ্টিপাতের সক্রিয় পর্যায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আপাতত অনেক অঞ্চলেই বর্ষার বৃষ্টিপাতে সাময়িক বিরতি দেখা যাবে। শুষ্ক অঞ্চলের বাসিন্দাদের উচিত আসন্ন ভ্যাপসা গরমের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া এবং আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক থাকা।