আজকাল ওয়েবডেস্ক: টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দেশের একাধিক রাজ্য। জলমগ্ন রাস্তাঘাট, উপড়ে পড়া গাছ আর তীব্র যানজটের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য থেকে একের পর এক মৃত্যুর খবর আসছে।

দিল্লিতে গত বৃহস্পতিবারের বৃষ্টিতে শিশু-সহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তর প্রদেশে দুর্যোগের জেরে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত সাত জন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে গাজিয়াবাদ এবং হিমাচল প্রদেশের কিছু জেলায় স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে।

পাহাড়ি রাজ্যগুলির অবস্থা আরও শোচনীয়। হিমাচল প্রদেশে ধসে দু'জন জখম হয়েছেন এবং হড়পা বানে একটি লোহার সেতু ভেসে যাওয়ায় বেশ কিছু গ্রাম যোগাযোগহীন হয়ে পড়েছে। উত্তরাখণ্ডে ধসের জেরে ১৮৫টিরও বেশি রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিঘ্নিত হচ্ছে চারধাম যাত্রা।

অন্য দিকে, মিজোরামে একাধিক ধসের কারণে বহু যাত্রী রাস্তায় আটকে পড়েছেন এবং ৮০টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। কেরলে ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গেও এই সপ্তাহান্তে ভারী বৃষ্টি জারি থাকবে। 

প্রসঙ্গত, আবহাওয়ার এই পরিস্তিতির পূর্বাভাস ছিল আগেই। ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে পূর্ব বাংলাদেশে। অন্যদিকে সক্রিয় হয়েছে মৌসুমি অক্ষরেখা। আর দুইয়ের প্রভাবে বঙ্গে বর্ষণ।

বৃহস্পতিবার দিনভর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পর, রাত থেকে টানা বৃষ্টি কলকাতায়। শুক্র সকালে আকাশ কালো। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শহরে।

হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত, দক্ষিণের সব জেলায় টানা দুর্যোগের সম্ভাবনা। প্রায় সব জেলায়, ১৪ তারিখ পর্যন্ত হলুদ সতর্কতা জারি।

কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই চব্বিশ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, দুই বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদিয়ায় ১৪ তারিখ পর্যন্ত জারি হলুদ সতর্কতা। সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা। বাতাসের গতিবেগ থাকতে পারে ৩০-৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়।