নিতাই দে,আগরতলা: সরকারি ও বেসরকারি সমস্ত স্কুলগুলি ছুটি দেওয়া হল ত্রিপুরায়। শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা জানিয়েছেন ৬ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যের সবকটি সরকারি বিদ্যালয়, বেসরকারী বিদ্যালয়, সরকারি অনুদান প্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে তিনি এমনটাই জানতে পেরেছেন। সেখানকার তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছিল। এই কথা মাথায় রেখে আপাতত পাঁচ দিনের সমস্ত স্কুলগুলো বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন  অবস্থা বুঝে আগামী দিনে স্কুলগুলির ছুটি আরও বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি তিনি বলেন, স্কুল বন্ধ হলেও ঘরে বসেও যেন পড়াশোনা চালিয়ে যান ছাত্র-ছাত্রীরা। পাশাপাশি অভিভাবকরা যেন ছাত্র-ছাত্রীদের দিকে নজর রাখেন।

উল্লেখ্য ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদ পরিচালিত সরকার স্বশাসিত জেলা পরিষদের স্কুলগুলি শীতের প্রকোপের কারণে ৩ জানুয়ারি থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে।


প্রসঙ্গত ভারতে চলতি বছর শীতের আমেজ আরও জোরালো। আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে ‘লা নিনাঅবস্থা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দক্ষিণ এশিয়ার আবহাওয়ার ওপর। এই কারণে ভারতজুড়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই কমে যেতে পারে, বিশেষ করে উত্তর ও মধ্য ভারতে।


‘লা নিনা’ স্প্যানিশ শব্দ, যার অর্থ “ছোট মেয়ে”। এটি পৃথিবীর অন্যতম প্রধান আবহাওয়াগত ঘটনা  যা এল নিনোর বিপরীত রূপ। এল নিনো যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়, সেখানে লা নিনা সেই তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়। এর ফলে বাতাসের প্রবাহ, বৃষ্টিপাতের ধরণ, এমনকি শীতের তীব্রতাও বদলে যায়।


ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষের দিক থেকে ২০২৬ সালের শুরুর মাসগুলিতে লা নিনা সক্রিয় হতে পারে। এর ফলে দেশের উত্তর-পশ্চিম, হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চল, মধ্য ভারত এবং এমনকি পূর্ব ভারতের কিছু অংশে তাপমাত্রা গড়ের তুলনায় ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে।


দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং মধ্যপ্রদেশে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ঠান্ডার তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এমনকি কিছু জায়গায় ঘন কুয়াশা, শৈত্যপ্রবাহ ও তাপমাত্রা পতনের কারণে জনজীবন ব্যাহত হতে পারে।


বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ লা নিনা সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশের বেশি। আবহাওয়া দপ্তর নাগরিকদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের ব্যবস্থা, গরম রাখার উপায়, এবং শিশু ও প্রবীণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, ভ্রমণ ও কৃষিকাজের সময় স্থানীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুসরণ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

&t=136s
বিশেষজ্ঞদের মতে, “লা নিনা” ভারতের জন্য একদিকে যেমন তীব্র শীতের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেমনি এটি হতে পারে কৃষি উৎপাদনের পক্ষে একটি ইতিবাচক সুযোগও। তবে অতিরিক্ত শীত ও অনিশ্চিত আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে সতর্ক থাকা জরুরি।