আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করুক। সম্প্রতি ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ঘোষমার সময়ও নিজেদের ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাঁর স্পষ্ট কথা, দিল্লি রাশিয়ান তেব কেনা প্রায় বন্ধ করছে। সত্যিই কী মোদি সরকার রাশিয়া থেকে তেল কেনা থামাবে? জানা গিয়েছে, ভারত আগের অবস্থানেই অনড়। নয়াদিল্লির দাবি, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজন অন্য যেকোনও কিছুর চেয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিদেশমন্ত্রক আজ জানিয়েছে, ১৪০ কোটি দেশবাসীর চাহিদা মেটাতে ভারতের জ্বালানি উৎস বহুমুখী করার একটি কৌশল রয়েছে।

বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "ভারতের জ্বালানি সংগ্রহের বিষয়ে সরকার বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যে বলেছে যে, ১৪০ কোটি ভারতীয়ের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।" তিনি আরও বলেন, "বাস্তবমুখী বাজার পরিস্থিতি এবং পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জ্বালানি উৎসকে বহুমুখী করাই আমাদের কৌশলের মূল ভিত্তি। ভারতের সমস্ত পদক্ষেপ এই বিষয়টি মাথায় রেখেই নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে।"

রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে এটাই ভারতের ধারাবাহিক অবস্থান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ যে, রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধে অর্থায়নের জন্য তেলের অর্থ ব্যবহার করছে, যা রাশিয়া  বারে বারে অস্বীকার করেছে।

ভারত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটেই রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারতের উপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছিল। হোয়াইট হাউস দাবি করার পর বিদেশমন্ত্রকের এই বিবৃতি এসেছে। 

ক্রেমলিন বলেছিল যে, ভারত যেখান থেকে খুশি তেল কিনতে স্বাধীন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রাশিয়া ভাল করেই জানে যে- তারা ভারতের কাছে তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের একমাত্র সরবরাহকারী নয়। পেসকভ বলেন, "ভারত সবসময় অন্যান্য দেশ থেকে এই পণ্যগুলো কিনেছে। তাই আমরা এখানে নতুন কিছু দেখছি না।"

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোর অংশ হিসেবে ভারত সমস্ত মার্কিন শিল্প পণ্য এবং বিভিন্ন ধরনের মার্কিন খাদ্য ও কৃষি পণ্যের উপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাস করবে। এর মধ্যে রয়েছে শুকনো ডিস্টিলার্স গ্রেইন, পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত লাল জোয়ার, বাদাম, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন এবং স্পিরিটসহ অন্যান্য পণ্য।

এর বিনিময়ে আমেরিকা সংশ্লিষ্ট নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী ভারতীয় পণ্যের উপর ১৮ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করবে, যা বস্ত্র ও পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, প্লাস্টিক ও রাবার, জৈব রাসায়নিক, গৃহসজ্জার সামগ্রী, হস্তশিল্প পণ্য এবং নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্রপাতির মতো খাতগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করবে।