আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাত্র এক মাসের তফাৎ। এক উপসর্গ নিয়েই মর্মান্তিক পরিণতি স্বামী ও স্ত্রীর। সেই বিষাক্ত পানীয় জল খেয়ে এক মাসের মধ্যে স্বামী ও স্ত্রীর মৃত্যু ঘিরে হাহাকার গোটা পরিবারে।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল সেই মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের ভাগীরথপুরায়। ২৮ ডিসেম্বর বিষাক্ত পানীয় জল খেয়ে ডায়রিয়া ও ঘনঘন বমির উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েছিলেন উর্মিলা যাদব। ঠিক ৩০ দিন সেই উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর স্বামী আলঘুরাম যাদব। গত বৃহস্পতিবার অরবিন্দ হাসপাতালে সেই উপসর্গ নিয়েই মৃত্যু হয় তাঁর। 

পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, বিষাক্ত পানীয় জল খেয়ে ওই পরিবারের আরও একাধিক সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সকলেই ভর্তি হন অরবিন্দ হাসপাতালে। এক মাসে পরপর মৃত্যুতে পরিবারেও আতঙ্কের ছায়া। সরকারের তরফে মাত্র দু'লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ পেয়েছে পরিবার। 

ইন্দোরের ভাগীরথপুরায় বিষাক্ত পানীয় জল খেয়ে ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও সরকার জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০টি পরিবারকে দু'লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। 

গত বছরের শেষ থেকেই ইন্দোরে বিষাক্ত পানীয় জল খেয়েই মৃত্যুমিছিল শুরু হয়। জানুয়ারির শুরুতেই ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন ছিলেন ২০০ জন। ঘনঘন বমি, পেট ব্যথা, পেট খারাপের মতো উপসর্গ ছিল সকলের। বিষাক্ত পানীয় জল খাওয়ার পরেই বিপত্তি বাড়ে। অসুস্থ হয়ে পড়েন ন'হাজারের বেশি বাসিন্দা। 

এরপর গুজরাটের গান্ধীনগরেও বিষাক্ত জলের অভিযোগ উঠেছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারির শুরুতে গান্ধীনগরের শতাধিক বাসিন্দা টাইফয়েডে আক্রান্ত হন। গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে ১০৪ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের তালিকায় শিশুরাও ছিল। 

গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সংঘভি ইতিমধ্যেই গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি জানান, ২২ জন বিশেষজ্ঞ ও ডাক্তারদের নিয়ে একটি টিম তৈরি করে, রোগীদের দেখভাল করা হচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এই টিম।