আজকাল ওয়েবডেস্ক:  কুলকুল শব্দে বয়ে চলেছে আপনমনে। কাউকে পরোয়া নেই। চলার পথে কখনও ভাসিয়ে নিয়ে চলে আবার কখনও ফেলে রেখে এগিয়ে চলে। জলধারার কথা হচ্ছে। মূলত পরিচিত নদী হিসাবে। কিন্তু কিছু জলধারাকে আবার নদও বলে। এখানেও লিঙ্গভেদ। কীভাবে বিচার হয় একটা জলধারা মহিলা নাকি পুরুষ?

 

 

সাধারণত, ভারতে প্রায় সমস্ত নদীকে সাধারণত মেয়েলি হিসাবে গণ্য করা হয় এবং মা বলে সম্মান করা হয়। গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতী, গোদাবরী এবং নর্মদার মতো নদীগুলিকে পুজো পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু যে জলধারাগুলি পুংলিঙ্গ হিসাবে স্বীকৃত তাদের মধ্যে সোন অন্য়তম। এর উল্লেখ বেদে রয়েছে। 

 

 

অন্যান্য নদীর মত একে মেয়ে বলে মনে করা হয় না। সোন, সোনাভদ্র শিলা নামেও পরিচিত। এই জলধারা যমুনার পরে গঙ্গার দক্ষিণের উপনদীগুলির মধ্যে বৃহত্তম। বিন্ধ্যাচল পাহাড়ে নর্মদা নদীর উৎসস্হলের ঠিক পূর্বদিকে মধ্যপ্রদেশের অনুপপুর জেলার অমরকন্টকের কাছে সোন -এর উৎপত্তি।

 

 

এই জলধারা বিহারের পাটনা জেলায় গঙ্গার সঙ্গে মিলিত হওয়ার আগে উত্তরপ্রদেশ এবং ঝাড়খণ্ড রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সোন মধ্যপ্রদেশের একটি উল্লেখযোগ্য নদী। সাধারণত এতে জলের স্তর কম থাকে  তবে বর্ষাকালে এটি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।

 

 

সোনার মতো ঝলকানো হলুদ বালি থেকে সোনা নদীর নাম হয়েছে। এর জল মিষ্টি এবং স্বাস্থ্যকর। এই বালি নির্মাণ কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়। এর নামের পিছনে একটি লোকবিশ্বাস রয়েছে। বলা হয়ে থাকে এটির আসল নাম ছিল সোহান, যা পরে সোন হয়।

 

 

অনেক ফার্সি, উর্দু এবং হিন্দি কবি তাদের কবিতায় এই জলধারা এবং এর জল সম্পর্কে লিখেছেন। কিন্তু এই জলধারা পুংলিঙ্গ কেন? সেটা জানতে হলে যেতে হবে পুরাণে।

 

 

রামায়ণ ও বিভিন্ন পুরাণে সোন -এর উল্লেখ আছে। অগ্নি পুরাণে বলা আছে এটি কেন নদ। এই জলধারাকে ভগবান ব্রক্ষ্মার পুত্র বলা হয়ে থাকে। এর বিয়ে করার কথা ছিল নর্মদা নদীকে। তুলসীদাস তাঁর রামচরিতমানসেও এটির উল্লেখ করেছেন।