আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রকৃতির অদ্ভুত সব রহস্যের মধ্যে অন্যতম হল সাপের খাদ্যাভ্যাস। অনেক সময় দেখা যায়, একটি সাপ মাসের পর মাস কোনও খাবার না খেয়েও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারে। প্রশ্ন উঠতেই পারে—এটা কীভাবে সম্ভব? মানুষ বা অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে যেখানে কয়েক দিন না খেলে শরীর ভেঙে পড়ে, সেখানে সাপের এমন সহনশীলতা সত্যিই বিস্ময়কর।


সাপ হল শীতল-রক্তের প্রাণী, অর্থাৎ এরা স্তন্যপায়ীদের মতো নিজেদের শরীরের তাপমাত্রা নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। পরিবেশের তাপমাত্রার ওপরই তাদের শরীরের তাপ নির্ভর করে। এই কারণেই তাদের বিপাকক্রিয়া বা অনেক ধীর। ধীর বিপাকক্রিয়ার ফলে শরীরের শক্তি খরচও কম হয়। ফলে তারা দীর্ঘ সময় না খেয়েও বেঁচে থাকতে পারে।


গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু প্রজাতির সাপ একবার বড় শিকার খাওয়ার পর কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত আর খাবার খোঁজে না। যেমন পাইথন বা বোয়া জাতীয় সাপ বড় আকারের শিকার—ইঁদুর, খরগোশ কিংবা হরিণশাবক—খেলে দীর্ঘ সময় হজম প্রক্রিয়ায় থাকে। একবার বড় শিকার খাওয়ার পর প্রায় দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত না খেয়েও থাকতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তারও বেশি সময়।


সাপের শরীর খাবার হজমের সময় নাটকীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। গবেষকরা দেখেছেন, বড় শিকার খাওয়ার পর সাপের হৃদযন্ত্র, যকৃত ও অন্ত্রের আকার সাময়িকভাবে বেড়ে যায়, যাতে দ্রুত হজম সম্পন্ন করা যায়। আবার হজম শেষ হলে অঙ্গগুলোর আকার স্বাভাবিক হয়ে আসে। এতে শক্তি সাশ্রয় হয়।


আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—সাপ শক্তি জমা রাখে চর্বি হিসেবে। প্রয়োজন হলে তারা সেই সঞ্চিত চর্বি ভেঙে শক্তি উৎপাদন করে। খাবার না পেলে শরীরের শক্তি খরচ কমিয়ে দেয়, কম নড়াচড়া করে এবং অধিকাংশ সময় স্থির থাকে। এতে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি খরচ হয় না।
শীতকালেও অনেক সাপ প্রায় না খেয়েই কাটিয়ে দেয়। ঠান্ডা আবহাওয়ায় তারা অর্ধনিদ্রার মতো অবস্থায় থাকে, যাকে ব্রুমেশন বলা হয়। এই সময় তাদের শরীরের কার্যকলাপ অনেকটাই কমে যায়, ফলে খাবারের প্রয়োজনও কম পড়ে।


তবে সব সাপই যে মাসের পর মাস না খেয়ে থাকতে পারে, তা নয়। ছোট প্রজাতির সাপ বা সদ্য জন্মানো বাচ্চা সাপের ক্ষেত্রে নিয়মিত খাবার প্রয়োজন। এছাড়া পরিবেশ, তাপমাত্রা এবং শিকারের প্রাপ্যতার ওপরও নির্ভর করে তাদের খাদ্যাভ্যাস।

&t=1s


সব মিলিয়ে বলা যায়, সাপের দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ক্ষমতা প্রকৃতির এক অসাধারণ অভিযোজন। ধীর বিপাকক্রিয়া, শক্তি সঞ্চয়ের কৌশল এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই তাদের এই বিশেষত্বের মূল কারণ। তাই মাসের পর মাস না খেয়েও তারা টিকে থাকতে পারে—যা সত্যিই বিস্ময় জাগায়।