আজকাল ওয়েবডেস্ক: নেপালের 'জেন জি' বিক্ষোভ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজধানীর এআই সম্মেলন ভেন্যুতে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সদস্যরা শার্ট খুলে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। আদালতকে এমনই জানাল অমিত শাহর নেতৃত্বাধীন দিল্লি পুলিশ। যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভের নেপথ্যে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ধৃতদের হেফাজতে চেয়ে পুলিশের বক্তব্য, "এটা একটা বৃহত্তর ষড়যন্ত্র, যা নেপালে 'জেন জি' বিক্ষোভ থেকে অনুপ্রাণিত। অভিযুক্তদের ডিজিটাল প্রমাণ-সহ একে অপরের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা উচিত। এই তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে যে, তদন্তকারীরা বিক্ষোভের নেপথ্যে আর্থির যোগান ও তহবিলের তদন্ত করছে। শুক্রবার কংগ্রেসের যুব শাখার প্রায় ১০ জন কর্মী নয়াদিল্লির এআই শীর্ষ সম্মেলন ভেন্যুতে প্রবেশ করে শার্ট খুলে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোরত যুব কংগ্রেস কর্মীদের টি-শার্টে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিশানা করা হয়েছিল। এছাড়া, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ও এপস্টিইন ফাইল নিয়েও সরব হতে দেখা য়ায়। এই টি-শার্টগুলোর জন্য কে টাকা দিল সেটাই এখন পুলিশ তদন্ত করছে।
যুব কংগ্রেস কর্মীরা সম্মনেলন ভেন্যুতে ঢুকে পড়ার পর নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন। সেই সময়ে স্যাম অল্টম্যান এবং সুন্দর পিচাই-সহ বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি নেতৃত্ব হাই-প্রোফাইল ওই সম্মেলনে হাজির ছিলেন। অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এই বিক্ষোভ রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতারা এটাকে "জাতীয়তাবিরোধী" বলে নিন্দা করেন এবং কংগ্রেসকে ভারতের বিশ্বব্যাপী ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ করেন। অন্যদিকে কংগ্রেস এই বিক্ষোভকে বৈধ গণতান্ত্রিক ভিন্নমত হিসেবে সমর্থন করেছে। হাত শিবিরের দাবি, এই বিক্ষোভ আসলে যুব ক্ষোভের প্রতিফলন।
বিজেপি প্রধান নীতীন নবীন এই বিক্ষোভের নিন্দা করেছেন। তাঁর দাবি, কিছু রাজনৈতিক দল "শহুরে নকশালবাদ" এর সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন
"আমরা প্রায়শই 'শহুরে নকশালবাদ' শব্দটি ব্যবহার করি। আমি বলতে পারি যে আগে কিছু দল (শুধুমাত্র) এর দ্বারা প্রভাবিত হলেও, আজ তারা সম্পূর্ণরূপে এর অংশ হয়ে উঠেছে।" নবীন আরও বলেন, "উন্নয়ের নিরিখে ভারত বিশ্বব্যাপী আলোচিত হলেও, এই ধরনের লজ্জাজনক কাজ দেশের অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।"
