আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া রুখতে অসমের ভোট বৈতরণী পারে 'হিন্দুত্ব'কেই ইস্যু করল বিজেপি। মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে বিজেপির ইস্তেহার। সেখানে ফের নির্বাচনে জয় পেয়ে ক্ষমতায় এলে ৩১টি প্রতিশ্রুতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, তিন মাসের মধ্যে 'অভিন্ন দেওয়ানি বিধি'র বাস্তবায়ন, 'লাভ জিহাদ' ও 'জমি জিহাদ' বন্ধে কার্যকরী আইন প্রণয়ন।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উপস্থিতিতে মঙ্গলবার প্রকাশিত হয় বিজেপির এই 'সংকল্প পত্র'।  

ইস্তেহারে পদ্ম বাহিনীর প্রতিশ্রুতি, 'অভিন্ন দেওয়ানি বিধি' বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিজেপি অসমের জনগণের সভ্যতা, ঐতিহ্য এবং অধিকার রক্ষার জন্য আইনি সুরক্ষা জোরদার করবে। তবে জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত এলাকা এবং উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে এই বিধির আওতামুক্ত রাখা হবে।

এছাড়াও, অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্তকরণ ও তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে 'অভিবাসী (অসম থেকে বহিষ্কার) আইন, ১৯৫০' বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজ্যের আদিবাসীদের ভূমি, ঐতিহ্য এবং মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার করেছে বিজেপি।

'মিশন বসুন্ধরা' প্রকল্পের আওতায় অবৈধ অভিবাসীদের দখলমুক্ত করে জমির প্রতিটি ইঞ্চি পুনরুদ্ধার এবং অসমের সকল প্রকৃত নাগরিককে জমির অধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

বিজেপি আশ্বাস দিয়েছে যে, যদি টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরা যায়, তবে তারা সত্র, নামঘর, দেবালয় এবং অন্যান্য উপাসনালয়ের যেসব জমি অবৈধভাবে দখল রয়েছে, সেগুলো পুনরুদ্ধার করবে।

নির্বাচনী ইস্তেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, প্রকল্পগুলোর যথাসময়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এবং অসমকে ভারতের 'পূর্বের প্রবেশদ্বার' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ৫ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এই উদ্যোগ 'অসম গতি শক্তি মাস্টার প্ল্যান'-এর সহায়তায় পরিচালিত হবে।

এছাড়াও, রাজ্যকে বন্যা-মুক্ত করার লক্ষ্যে ১৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে 'বন্যা মুক্ত অসম মিশন' চালু করার অঙ্গীকার করেছে বিজেপি।

পাশাপাশি, বিজেপি ক্ষমতায় ফিরলে আগামী পাঁচ বছরে দু'লক্ষ সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করবে এবং বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আরও বেশি উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করবে।

বিজেপি রাজ্যের প্রতিটা জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ তৈরিরও অঙ্গীকার করেছে।

এছাড়াও গেরুয়া শিবির জানিয়েছে যে, তারা 'অরুণোদয়' প্রকল্পের আওতায় নারীদের জন্য মাসিক সরাসরি ব্যাঙ্ক স্থানান্তরের পরিমাণ বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করবে। এতে আরও বলা হয়েছে যে, তাদের লক্ষ্য হল ৪০ লক্ষ 'লাখপতি বাইদেউ' তৈরি করা - যা অসম সরকারের একটি প্রধান উদ্যোগ এবং যার উদ্দেশ্য হল নারীদের, বিশেষ করে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা।

বিজেপি জানিয়েছে যে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে চা বাগানের শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হবে। চা বাগানের শ্রমিকরা একটি করে বাড়িও পাবেন।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলাসীতারামন বলেন, "এই নির্বাচনী ইস্তেহারটি প্রস্তুত করা হয়েছে "রাজ্যের এক দশকের রূপান্তরের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে - যা কংগ্রেস ৬০ বছরেও অর্জন করতে পারেনি।"

রাজ্যের ১২৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন হবে আগামী ৯ এপ্রিল এবং ভোট গণনা  ৪ঠা মে।