ভারতে অর্থিক বছরের সমাপ্তি হয় ৩১ মার্চ। এই তারিখটি ১৮৬৭ সাল থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে। এর আগে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ক্যালেন্ডার ব্যবহৃত হত।
2
6
কিন্তু, ব্রিটিশরা তাদের নিজস্ব আর্থিক বছরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভারতেও এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। ব্রিটেনেও মার্চে শেষ হত আর্থিক বছর। স্বাধীনতার পরও প্রশাসনিক সুবিধা এবং ধারাবাহিকতার কারণে ভারত সরকার এই কাঠামো বজায় রেখেছে।
3
6
ভারতের অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক। এপ্রিল-মার্চ আর্থিক চক্র ফসলের মরশুমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই ব্যবস্থা সরকারের জন্য কৃষি উৎপাদন মূল্যায়ন, বাজেট পরিকল্পনা এবং নতুন আর্থিক বছর এপ্রিল থেকে শুরু করার জন্য নীতি প্রণয়ন সহজ করে। ফলে কর রাজস্ব ও ব্যয়ের পরিকল্পনা কৃষি চক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
4
6
৩১ মার্চ আয়কর হিসেব, অডিট এবং আর্থিক রিপোর্টের জন্য একটি সুস্পষ্ট সমাপ্তি তারিখ। এই ব্য়বস্থা রিটার্ন দাখিল করা, ব্যালেন্স শিট প্রস্তুত করা এবং হিসেব মেলানো প্রক্রিয়াকে সহজ করে। ব্যক্তিদের জন্য এটা কর সাশ্রয়ী বিনিয়োগের সময়সীমা নির্দেশ করে, আর ব্যবসার জন্য এটি আর্থিক তথ্য প্রকাশে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করে।
5
6
ব্রিটেন, জাপান-সহ অনেক দেশেই এখনও এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত আর্থিক বছর গণ্য হয়। ভারতের এই চক্রের সঙ্গে মিল আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগকে সহজ করে, যা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য বিভিন্ন অঞ্চলে হিসেব পরিচালনা করা সুবিধাজনক করে তোলে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ডেটার তুলনাও সহজ হয়।
6
6
আর্থিক বছরের পরিবর্তন কর, হিসেব রক্ষণ এবং ব্যবসায়িক চক্রে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে। প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জন্য সরকার ধারাবাহিকভাবে ৩১ মার্চে আর্থিক বছরের সমাপ্তি বজায় রেখেছে।