আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাবে ভারতের বেশ কয়েকটি স্থানীয় শিল্প বিপর্যস্ত। কিন্তু একটি শিল্প এই ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে লাভবান হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেটি হল দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে যাওয়ার ফ্লাইটের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর, পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথের বিস্তীর্ণ অংশ কার্যত বন্ধ থাকায়, বিদেশে গ্রীষ্মের ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করা অনেক ভারতীয় পর্যটক এখন দেশের গন্তব্যগুলিতে ঘুরতে যাচ্ছেন।

নানা ভ্রমণ প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, লাদাখ, ঋষিকেশ, সিমলা, কুলু-মানালি এবং শিলংয়ের মতো জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটনস্থলগুলিতে ঘুরতে যাওয়া সংক্রান্ত অনুসন্ধানের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পয়েছে। কারণ, ভ্রমণকারীরা আগামী মাসগুলিতে ঠান্ডা পরিবেশে ছুটি কাটাতে চাইছেন।

মানি কন্ট্রোলের একটি প্রতিবেদনে টিকিট বুকিং প্ল্যাটফর্ম ওয়ান্ডারঅন-এর তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে যে, প্রায় ৬৫% ভ্রমণকারী এখন দেশের পর্যটনস্থলগুলিতে ঘুরতে যাওয়ার কথা ভাবছেন। ওয়ান্ডারঅন-এর সিইও গোবিন্দ গৌর বলেন, “গত কয়েক সপ্তাহে আমরা ভ্রমণ মানসিকতায় একটি লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখেছি। দেশের ভিতরে ঘুরতে যাওয়া এবং অল্প সময়ের ছুটি কাটানোর প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, লাদাখ এবং উত্তর-পূর্বের শীতল অঞ্চলগুলির প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি। বুকিং ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, ভ্রমণকারীরা ক্রমশ স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণ, নমনীয় ভ্রমণসূচী এবং বাজেট-সচেতন বুকিং বেছে নিচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে অনেকেই দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে রাজি নন। আরও একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। পর্যটকরা আধ্যাত্মিক পর্যটনের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। মিলেনিয়াল প্রজন্মের প্রায় ২৩ শতাংশ অনুসন্ধান ঋষিকেশের মতো গন্তব্যস্থলকে কেন্দ্র করে হচ্ছে।

মানি কন্ট্রোল-এর প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি শহরে বুকিংয়ের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। উদয়পুরে গত বছরের তুলনায় বুকিং ৬৯% বৃদ্ধি পেয়েছে, এরপরেই রয়েছে যোধপুর, সেখানে বৃদ্ধি ৪৭%। বাগডোগরায় ৪৪%, শ্রীনগরে ৪১% এবং আগরতলায় ৩৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশীয় ভ্রমণের চাহিদ বাড়লেও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা পুরোপুরি উধাও হয়ে যায়নি। বরং তা দেশের কাছাকাছি গন্তব্যের দিকে সরে এসেছে। ভ্রমণ বুকিং প্ল্যাটফর্ম ixigo-এর মতে, ভিয়েতনাম, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ডের মতো গন্তব্যগুলির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন পর্যটকরা।