আজকাল ওয়েবডেস্ক: গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। তীব্র গরমের দাপটে নাজেহাল রাজধানীর সাধারণ মানুষ। আগামী এক সপ্তাহে দিল্লীর তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। আশঙ্কা, তাপমাত্রার পারদ ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার, ভারতের আবহাওয়া দপ্তর বা আইএমডি দিল্লী এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস জারি করেছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শুধু দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাই বাড়বে এমন নয়। রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেশি থাকবে আগামী দিনগুলিতে। আইএমডি-র তরফে জারি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সোমবার অর্থাৎ ১৮ মে থেকে দিল্লিতে একটি দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের 'স্পেল' শুরু হতে পারে। সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হতে পারে ৪৩ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে।
আপাতত আবহাওয়া দপ্তর কোনও বিশেষ সতর্কতা জারি না করলেও গরম হাওয়া বা 'লু'-ও বইতে পারে বলে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে। সারাদিন ঘণ্টায় ২০-৩০ কিমি বেগে এবং কখনও কখনও সর্বোচ্চ ৪০ কিমি বেগে গরম হাওয়া বা 'লু' বইতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ১৮ থেকে ২০ মে পর্যন্ত দিল্লীর তাপমাত্রায় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তাপমাত্রার পারদ একই রকমই চড়া থাকবে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, পূবালী হাওয়ার জায়গায় এখন উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মধ্য পাকিস্তান এবং রাজস্থান থেকে আসা এই বাতাস অত্যন্ত শুষ্ক এবং গরম। এর ফলেই আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হবে।
তবে এই অবস্থা কেবল মাত্র দিল্লীতে নয়, পঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় এবং রাজস্থানেও বজায় থাকবে। আবহাওয়া দপ্তর ওই রাজ্যগুলিতেও আগামী ১৮ থেকে ২৩ মে-র মধ্যে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে। এ ছাড়া, ১৯ থেকে ২৩ মে-র মধ্যে উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশে তীব্র তাপপ্রবাহ চলতে পারে। মধ্যপ্রদেশ, বিদর্ভ, ছত্তিশগড় এবং তেলেঙ্গনাতেও ১৭ থেকে ২১ মে-র মধ্যে গরমের দাপট বজায় থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছে হাওয়া অফিস। মোটের ওপর, আগামী ২০ মে-র মধ্যে সারা দেশ জুড়েই তাপমাত্রা প্রায় ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, এই মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে কেরালা হয়ে দেশে বর্ষার আগমন ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে, হাওয়া অফিস। তবে চলতি বছরের বর্ষা নিয়ে আশঙ্কার ইঙ্গিতও দিল আবহাওয়া দপ্তর। চলতি বছরের প্রথম দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এর পিছনে প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা ‘এল নিনো’ পরিস্থিতিই দায়ী, যা ভারতের মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা।















