আজকাল ওয়েবডেস্ক: মালাবদল হয়ে গিয়েছিল। বাকি ছিল সিঁদুরদান। ঠিক তার আগেই ঘটল অঘটন। আচমকাই চেঁচামেচি শুরু করে পাত্রীর পোষ্য সারমেয়। চেঁচামেচি শুনে বিরক্ত হয়ে তাকে মারধর করেন পাত্রের এক আত্মীয়। ব্যাস, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিরাট পদক্ষেপ করলেন পাত্রী। বিয়ে ভাঙার ঘোষণা করলেন তিনি।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, গত বুধবার ফতেহপুর জেলায় খাগা কোতওয়ালি এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। সেদিন বিয়ের আসরে আচমকাই পাত্র ও পাত্রীর পরিবার সদস্যদের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। বচসা চলাকালীন পাত্রীর পোষ্য সারমেয়কে লাথি, ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছে পাত্রের আত্মীয়দের বিরুদ্ধে। এর জেরে বিয়ের আসরে দাঁড়িয়ে বিয়ে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন পাত্রী।
জানা গেছে, প্রয়াগরাজ থেকে গাড়ি, বাসে করে কনের আত্মীয়রা এসেছিলেন। অন্যদিকে বরযাত্রীরা বিরাট শোভাযাত্রা করে বিয়েবাড়িতে পৌঁছন। বিয়ের প্রাথমিক কিছু আচার সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। এমনকী পাত্র ও পাত্রীর মালাবদল পর্যন্ত হয়ে গিয়েছিল।
সুমিত খেশওয়ার্নি নামের পাত্র জানিয়েছেন, পাত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল কয়েক বছর ধরে। এমনকী পরিবারের অমতের কারণে পালিয়ে গিয়ে বিয়েও করেছিলেন। অবশেষে পাত্রীর পরিবার একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সামাজিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সেই প্রস্তাবেই ফতেহপুর জেলায় বিয়ের আসর বসেছিল।
বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন ভোরবেলায় অঘটন ঘটে। সেই সময় পাত্রী ও পাত্র কিছু আচার পালন করছিলেন। বিয়ের মণ্ডপ থেকে খানিকটা দূরে চেন দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল পাত্রীর পোষ্য সারমেয়কে। ভোরবেলায় আচমকাই সারমেয় চেঁচামেচি করতে শুরু করে। তখনই পাত্রের এক আত্মীয় পোষ্যটিকে লাথি মারেন। পোষ্যকে মারধর করতে দেখেই পাত্রীর পরিবার আপত্তি জানায়।
পোষ্য সারমেয়কে মারধরের ঘটনা থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে বচসা শুরু হয়। ক্রমেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চেয়ার ভাঙচুর করে, লাঠি দিয়েও মারধর করেছিল দুই পক্ষ। পাত্রীর পরিবারের তিন সদস্য, শুভম গুপ্তা, ঋষভ, সঙ্গীতা দেবী গুরুতর আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় বিয়ের আসরে লুটিয়ে পড়েন। পাত্রের দুই আত্মীয়ও আহত হয়েছিলেন।
কিছুক্ষণ পরেই পুলিশ হাজির হয় বিয়ের আসরে। আতঙ্কে কয়েকজন নিমন্ত্রিত পালিয়ে যান। এই ঘটনাটি থানা পর্যন্ত গড়ায়। সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় বিয়ের অনুষ্ঠান। আহতদের সেন্ট্রাল হেল্থ সেন্টার ভর্তি করানো হয়। বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের সদস্যরা থানায় পৌঁছে আলোচনায় অংশ নেন।
থানায় পৌঁছেই পাত্রী সাফ জানিয়ে দেন, তিনি বিয়ে বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কোনও ভাবেই এই শ্বশুরবাড়িতে তিনি থাকবেন না। অবশেষে পঞ্চায়েতে আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষ সোনার গয়না, নগদ টাকা, উপহার সব একে অপরকে ফিরিয়ে দেয়। ঘটনাটি ঘিরে এখনও এলাকায় শোরগোল রয়েছে। কোনও পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি।
