আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক অ্যাকাউন্ট। আলাপ করেই শুরু বন্ধুত্ব। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক। আপত্তি জানালেই জোরজবরদস্তি করে যৌন নির্যাতন। এবার আরও এক জনপ্রিয় ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারের কীর্তি ফাঁস। একাধিক মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে কেরলে। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, ত্রিশূরে ৩৮ বছর বয়সি যুবককে একাধিকবার শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পেশায় তিনি একজন ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার ছিলেন। মহিলাদের অভিযোগ, ইনস্টাগ্রামে তিনি প্রথমে সকলের সঙ্গে আলাপ করে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। বন্ধুত্বের সম্পর্কের টোপ দিয়ে একাধিক মহিলার শ্লীলতাহানি ও যৌন নির্যাতন করেছেন তিনি।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম, যাদু গিরিশ। তিনি ত্রিশূরের থান্যায়ামের বাসিন্দা। ইনস্টাগ্রামের জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার তিনি। একাধিক অ্যাকাউন্ট ছিল। সেই অ্যাকাউন্ট থেকে মহিলাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন।
সম্প্রতি এক তরুণী থানায় গিরিশের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করতেই আরও দুই তরুণী গিরিশের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। সকলের অভিযোগ, ইনস্টাগ্রামে আলাপ করেই বন্ধুত্ব গড়ে তুলতেন গিরিশ। এরপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন। জোরজবরদস্তি করে যৌন নির্যাতন করতেন তিনি।
গিরিশকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের অনুমান, আরও একাধিক মহিলা যৌন নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় গিরিশের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ত্রিশূরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী টিম এই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসেই বাংলার জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার শমীকের বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগ জানিয়েছিলেন তাঁর এক কাছের বান্ধবী। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২২ বছর বয়সি এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রুজু করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, বেহালা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে বন্দি করে রেখেছিলেন শমীক। ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধে পর্যন্ত ওই ফ্ল্যাটেই আটকে রাখা হয় তাঁকে।
অভিযোগকারিণীর আইনজীবীর তরফে জানানো হয়েছিল, শমীক তাঁর পরিচিত বন্ধু। বাড়ি বদলের সময় সাহায্যের অজুহাতে তাঁকে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠান শমীক। এরপরই তরুণীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সারারাত ধরে তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ। তরুণী পুলিশের দ্বারস্থ হতেই শমীক বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। সেই সময় থেকেই তাঁর মা-বাবারও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে পুলিশ সূত্রে খবর। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দমদম এলাকা থেকে শমীককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার বেহালা থানা থেকে অভিযুক্তকে আলিপুর আদালতে আনা হয়েছে। ওইখানেই অভিযোগকারিণীর গোপন জবানবন্দি চলেছে। আলিপুর আদালত চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে শমীক জোর গলায় দাবি করেছিলেন, “আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।”
১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার তাঁকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। সূত্রের খবর, শমীকের ফোন থেকে বেশ কয়েকটি আপত্তিজনক ভিডিও উদ্ধার হয়। আর তা নিয়ে তৈরি হয় নতুন জটিলতা।
