আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিমানবন্দরে ফোঁস ফোঁস শব্দ! কানে শব্দ পৌঁছতেই ভয়ে কাঁটা যাত্রীরা। চোখে উপরে তুলতেই রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ। মাথার ওপরে এসির উপর ঘাপটি মেরে বসেছিল বিরাট সাপ। যা ঘিরে হুলস্থুল কাণ্ড মুম্বই বিমানবন্দরে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ের এয়ারপোর্টে। জানা গেছে, সেখানে এক ঘরের মধ্যে এসি-র ঠিক উপরেই সাত ফুট লম্বা ইন্ডিয়ান ব়্যাট স্নেক বা দাঁড়াশ সাপ দেখা গেছে। যা দেখার পরেই স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। খানিকক্ষণ পরেই যদিও উদ্ধারকারী দল এসে সাপটি উদ্ধার করে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বই বিমানবন্দরের এয়ার ইন্ডিয়া গেট নম্বর তিন-এ। বাইরেই একটি এসির উপর সাত ফুট লম্বা দাঁড়াশ সাপটি সকলের নজরে পড়ে। খানিকক্ষণ পরেই দেওয়ালের পাশ দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছিল সাপটি। ঘটনাস্থলে হাজির ছিলেন ফটোগ্রাফার করণ সোলাঙ্কি। তিনি ফোনেই ক্যামেরাবন্দি করেন মুহূর্তটি।
বিমানবন্দরে সাপের উপস্থিতির কথা জেনেই আশা সংস্থার উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে তড়িঘড়ি পৌঁছয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সাপটি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় কেউই আহত হননি। পরবর্তীতে বন দপ্তরের তরফে সাপটিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
দাঁড়াশ সাপ বিষমুক্ত। মূলত ইঁদুর খায় এরা। কিন্তু এত লম্বা সাপ দেখেই আতঙ্কে হুলস্থুল পড়ে যায় এলাকায়। ভিডিওটি ইউটিউবে শেয়ার করেছিলেন ওই ফটোগ্রাফার। যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়।
২০২৪ সালে ভারতীয় রেলের এসি কামরায় এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। চলন্ত ট্রেনের এসি কামরায় মাঝে মাঝে ফোঁস ফোঁস শব্দ। খানিকটা নড়ে উঠছে পর্দাও। জানলার পাশে কী আছে, প্রথমে কিছুই টের পাননি কেউই। কিছুক্ষণ পর পর্দা সরাতেই চোখ ছানাবড়া কামরার যাত্রীদের। এসি কামরার জানলার পাশেই ছিল বিরাট সাপ। দীর্ঘক্ষণ ওভাবেই গুটিয়ে ছিল সেটি। পর্দা সরাতেই তার উপস্থিতি দেখেই আঁতকে ওঠেন সকলে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে ভাস্কো দা গামা এক্সপ্রেসে। ঝাড়খণ্ড থেকে গোয়াগামী ওই ট্রেনের এসি টু টায়ার কামরায় উদ্ধার হয়েছে সাপটি। ২১ অক্টোবর ওই কামরায় ছিলেন এক বৃদ্ধ দম্পতি। তাঁদের সিটের পাশ থেকে পর্দা সরাতেই উদ্ধার করা হয়েছে সাপটি। যা ঘিরে ভারতীয় রেলে আবারও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন।
বৃদ্ধ দম্পতির ছেলে অঙ্কিত কুমার সিনহা এক্স হ্যান্ডেলে ঘটনাটি জানায়। পোস্টের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকেও ট্যাগ করেন তিনি। অঙ্কিত জানান, তাঁর বাবা-মা ওই ট্রেনের যাত্রী ছিলেন। তাঁদের সিটের জানলার পাশ থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, যাত্রীদের মধ্যে হইচই শুরু হতেই আরআরসিটিসি-র কর্মীরা সেখানে পৌঁছে যান। সাদা চাদর পেঁচিয়ে সাপটিকে ধরেও ফেলেন। পরে সেটিকে বাইরে ফেলে দেওয়া হয়। রেলওয়ে সেবা দলের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি জানতে পেরেই প্রতিনিধিরা পৌঁছে সাপটিকে উদ্ধার করেছেন। কিন্তু কোথা থেকে সেটি এল তা এখনও জানা যায়নি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
