আজকাল ওয়েবডেস্ক:  গত কয়েকদিন ধরে গোরক্ষক বাহিনী গোরুর মাংস খাওয়ার অপরাধে বেশ কয়েকজনকে খুন, অত্যাচার করেছে। তার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক সাবির মালিককে হরিয়ানায় পিটিয়ে খুন। এছাড়াও মহারাষ্ট্রে এক বৃদ্ধকে গোমাংস নিয়ে যাওয়ার অপরাধে চড়-থাপ্পর মারা হয় বলে অভিযোগ।

 

 

এর মধ্যেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের নেতৃত্বের আবেদন কোনও গোহত্যা করা যাবে না, মানুষও মারা যাবে না, তার জেরে দেশে শান্তি বজায় থাকবে। এমনটাই দাবি, আরএসএস নেতা ইদ্রিশ কুমারের।

 

 

প্রায় শোনা যায়, গোহত্যা বা গোমাংস খাওয়ার অপরাধে অত্যাচার করা হয়েছে। এমনকী খুনের খবরও উঠে আসে খবরের শিরোনামে। এবার আরএসএসের নেতার মুখেই শোনা গেল গোহত্যা বন্ধের ডাক। বন্ধ হোক মানুষের ওপর অত্যাচারও। এর ফলে সব ধর্মের মানুষ একইসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন। আরএসএস নেতাকে কটাক্ষ করে বিরোধীদের মন্তব্য, মানুষের আগে গো-রক্ষা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

 

 

বিরোধীদের দাবি, আরএসএসের লোকেরা গরুকে মা সম্বোধন করে থাকেন। গরুকে রক্ষা করা, তাদের পুজো করার নিদান দিয়ে থাকেন আরএসএসের কর্মীরা। গরুকে রক্ষার জন্য তৈরি হয়েছে গো-রক্ষক বাহিনী। গো-মাংস ফ্রিজে রাখা, গো-মাংস খাওয়া, গো-মাংস বিক্রির অপরাধে, কখনও অত্যাচার আবার কখনও পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।

 

 

সম্প্রতি শুরু হয়েছে পঞ্চম ধাম ন্যাস। এর বিহার পর্যায়ের পৃষ্ঠপোষকও আরএসএসের এই নেতা, এমনটাই জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সংস্থার তরফ থেকে। এই অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে গণেশ চতুর্থী তিথিতে বিহারের মাধেপুরা জেলা থেকে। আগামী বছর অর্থ্যাৎ ২০২৫ এর মার্চ মাসে মহা শিবরাত্রিতে শেষ হবে। এই কর্মসূচির একটাই লক্ষ্য, দাঙ্গা এবং বর্ণ-ভিত্তিক বৈষম্য থেকে মুক্ত এবং দলিতদের  প্রতি সমবেদনা তৈরি করা  সমাজে। ১০৮ টা শিবমন্দির পরিভ্রমণ করা হবে এই কর্মসূচীতে। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ওই নেতা।

 

 

সংবাদমাধ্যমকে ইদ্রিশ কুমার জানিয়েছেন, সারা দেশের এবং বিশ্বের বহু জায়গার মানুষ গোমাংস খান কিন্তু এটাও ভাবতে হবে গরু নিয়ে একশ্রেণীর মানুষ স্পর্শকাতর। তাই সেই বিষয়টি মাথায় রেখে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে গরু হত্যা এবং মানুষকে খুন কিংবা হেনস্থা না করা হয়।

 

 

বহুভাষা, বহুধর্মের দেশে যেখানে এক শ্রেণীর মানুষ গরুকে খাদ্য হিসেবে দেখে সেখানে এ ধরণের মন্তব্য সাম্প্রদায়িকতাকেই উস্কে দিচ্ছে বলে কটাক্ষ বিরোধী শিবিরের।