আজকাল ওয়েবডেস্ক: "দশ বছর পর ঈশ্বর আমাদের সুখ দিয়েছিলেন... আর তারপর ঈশ্বরই তা কেড়ে নিলেন," এই কথাটিই বারবার বিড়বিড় করে বলতে বলতে ইন্দোরের ভাগীরথপুরার একটি সরু গলিতে এক বৃদ্ধা নীরবে কাঁদছেন। তাঁর সামনের ঘরের ভেতরে একটি ছোট খাট পাতা। বাড়িতে শুধুই যন্ত্রণার নীরবতা।

বাড়ির এক কোণে বসে আছেন এক মা, যাঁর শরীরে কখনও দুধ তৈরি হয়নি। কোনও অসুস্থতা ছিল না, কিন্তু এটাই বাস্তবতা। ডাক্তারের পরামর্শে শিশুটিকে সামান্য কলের জল মেশানো প্যাকেটের দুধ খাওয়ানো হত। ওই জলেই পরিবারটি ভরসা করেছিল। সেই জলই বিষাক্ত প্রমাণিত হয়েছে। সেই বিষজল পান করেই মৃত্যু হয়েছে সাড়ে পাঁচ মাসের আভিয়ানের।

ইন্দোরের ভাগীরথপুরা এলাকায় দূষিত জল পান করে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

আভিয়ানের বাবা সুনীল সাহু একটি বেসরকারি কুরিয়ার কোম্পানিতে কাজ করেন। বছরের পর বছর প্রার্থনা ও অপেক্ষার পর ৮ই জুলাই তিনি পুত্রসন্তানের বাবা হন। তাঁদের মেয়ে কিঞ্জলেরবয়স সাড়ে দশ বছর।

শিশুটা সুস্থ ছিল। কোনও অসুস্থতা ছিল না। কিন্তু দুই দিন আগে আভিয়ানের জ্বর ও ডায়রিয়া হয়। তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ওষুধ দেওয়া হয়, কিন্তু তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রবিবার রাতের মধ্যে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। সোমবার সকালে হাসপাতালে যাওয়ার পথেই আভিয়ান মারা যায়।

পরিবারটি বিশ্বাস করে যে পাঁচ মাসের শিশুর শারীরির অসুস্থতা হয়ে ছিল বিষাক্ত জল থেকেই।

সুনীল বলেন, জল যে দূষিত, তা তাঁদের কেউ জানায়নি। তাঁরা জল ছেঁকে নিত, ফিটকিরি মেশাত এবং সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করত। পুরো পাড়ার মানুষ একই জল ব্যবহার করত। কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি। কোনও পরামর্শও দেওয়া হয়নি।

সুনীল বলেন, "আমার বিশ্বাস, আমরা দুধে যে জল মিশিয়েছিলাম, সেটাই ওর ক্ষতি করেছে। আমার স্ত্রীর দুধ তৈরি হত না, তাই আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যাকেটের দুধে জল মেশাতাম। আমরা নর্মদার কলের জল ব্যবহার করতাম। আমরা কখনও কল্পনাও করিনি যে এটা এত দূষিত হতে পারে। ওর দুই দিন ধরে ডায়রিয়া ছিল। আমরা ওকে ওষুধ দিয়েছিলাম। তারপর হঠাৎই ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে এখানকার লোকেরা আমাদের আসল সত্যিটা বলেছে।"

মৃত ঠাকুমা নরম সুরে বলেন, "আমরা গরিব। আমাদের ছেলে একটা বেসরকারি চাকরি করে। তা দিয়েই সংসার চলে। আমরা কাউকে দোষ দিতে পারি না। ঈশ্বর আমাদের সুখ দিয়েছিলেন... আর তারপর তা কেড়ে নিলেন।" ঘরের ভিতরে শিশুটির মা জ্ঞান হারাচ্ছেন এবং ফিরে পাচ্ছেন। দশ বছর বয়সী কিঞ্জল চুপচাপ বসে আছে, যেন সে বুঝতে পারছে যে এমন কিছু হয়েছে যা আর ফিরে পাওয়া যাবে না।

এটা শুধু আভিয়ান সাহুর গল্প নয়। এটা এমন এক মায়ের গল্প, যার বুকে দুধ ছিল না, কিন্তু ছিল অগাধ বিশ্বাস। এটা এমন এক ঠাকুমার গল্প, যার মুখে কোনও কথা নেই, আছে শুধু চোখের জল। এটা এমন এক শহরের গল্প, যেখানে প্রশাসন শহরকে পরিচ্ছন্ন বলে দাবি করে, কিন্তু যার নীরবতাই তার গভীরতম কলঙ্কে পরিণত হয়েছে।