আজকাল ওয়েবডেস্ক: সামাজিক মাধ্যমে একটি অদ্ভুত ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, এক খাবার ডেলিভারি কর্মীকে গভীর রাতে একটি কবরস্থানের ভেতরে গিয়ে খাবার পৌঁছে দিতে বলা হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। ভিডিওটির শুরুতেই দেখা যায়, ডেলিভারি কর্মী ফোনে মহিলা গ্রাহককে জানাচ্ছেন যে তিনি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে গেছেন। জবাবে মহিলা গ্রাহক রহস্যময়ী কণ্ঠে বলেন, “সোজা সামনে এগিয়ে আসুন… পাশে একটি কুকুর বসে আছে, ওটা নিয়ে চিন্তা করবেন না।”
কর্মী কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে সামনে তাকাতেই থমকে দাঁড়ান। এরপর তিনি বিস্ময়ভরা কণ্ঠে বলেন, “কবরস্থান! ম্যাডাম, ভেতরে তো পুরো অন্ধকার… আমি ভিতরে যাচ্ছি না।” কিন্তু মহিলাটি নির্বিকার ভঙ্গিতে বলেন, “হ্যাঁ, গেট দিয়ে ভেতরে চলে আসুন, সেখানেই ডেলিভারি দিয়ে দিন।” এই পরিস্থিতিতে ডেলিভারি কর্মী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি কবরস্থানের ভেতরে ঢুকবেন না। তিনি বলেন, গ্রাহককে গেট পর্যন্ত এসে খাবার নিয়ে যেতে হবে, না হলে তিনি অর্ডার বাতিল করে দেবেন। এরপর কথোপকথন আরও অদ্ভুত মোড় নেয়। ওই মহিলা দাবি করেন, তিনি নাকি কবরস্থানের ভেতরে বন্ধুদের সঙ্গে “পার্টি” করছেন। এতে হতবাক হয়ে ডেলিভারি কর্মী প্রশ্ন করেন, “মানুষ কি সত্যিই কবরস্থানে খাবার অর্ডার করে?”
🚨 STRANGER THINGS HAPPENING 🚨
— Gagan Choudhary (@choudhary_99415)
--Viral Video shows woman Ordering Food at the Graveyard
Delivery Agent declines to Enter
-- Seriously not funny woman why she will do that?? pic.twitter.com/FZePgFgv44Tweet by @choudhary_99415
মহিলা তখন তাকে ভূতে ভয় পাওয়ার অভিযোগ তোলেন। জবাবে কর্মী বলেন, বিষয়টি ভয়ের নয়, বরং গভীর রাতে কবরস্থানের ভেতরে ঢোকা অনুচিত এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আবারও অনুরোধ করেন যাতে অর্ডারটি বাতিল করা হয়, কারণ তিনি আর এগোবেন না। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই ডেলিভারি কর্মীর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “মানুষ প্রায়ই ভুলে যায় যে ডেলিভারি কর্মীরাও মানুষ, রোবট নয়। কাউকে শুধু খাবার পৌঁছে দিতে রাতের অন্ধকারে কবরস্থানে ঢুকতে বলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তিনি নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটাকে সম্মান করা উচিত।”
আরেকজন মন্তব্য করেন, “এই ধরনের ভিডিও বানানোর আগে কি কেউ ভাবেন? ওই ডেলিভারি কর্মী কতটা মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছিলেন তা কি বোঝা যায়? শুধু কনটেন্ট আর ভিউয়ের জন্য মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করা ঠিক নয়।” তবে অনেকেই মনে করছেন ভিডিওটি সাজানো বা মজার ছলে করা কোনও প্র্যাঙ্ক হতে পারে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “আমার মনে হয় এটা প্র্যাঙ্ক। কবরস্থানে বসে কেউ এত শান্তভাবে খাবার অর্ডার করবে—এটা বিশ্বাস করা কঠিন।”
আরেকজন মন্তব্য করেন, “এ ধরনের প্র্যাঙ্ক মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। মানুষের ভয় বা অস্বস্তিকে মজা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।” ভিডিওটি সত্যি ঘটনা নাকি পরিকল্পিত প্র্যাঙ্ক—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনাটি ডেলিভারি কর্মীদের কাজের পরিবেশ, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং পেশাগত সীমারেখা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
