আজকাল ওয়েবডেস্ক: দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রের উপর গুন্ডাগিরি শিক্ষকের! হোমওয়ার্ক শেষ না করার জন্য ১০ বছরের শিশুকে লাঠি দিয়ে ১৫০বার মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের কর্নাইলগঞ্জ এলাকায়। প্রহত ছাত্রের
দু'পা জুড়ে লম্বা লম্বা কালশিটের দাগ রয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক প্রখর সিং ইংরেজি পড়ান স্কুলে। তাঁর বিরুদ্ধে ছাত্রকে লাঠিপেটার অভিযোগ উঠেছে।
শিশুটির বাবার করা অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষক প্রখর সিং তাঁর ছেলেকে লাঠি দিয়ে নাগাড়ে মারধর করেছেন। বাবা অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর ছেলেকে "১৫০ বার" মারা হয়েছে। এর জেরে ছেলের পায়ে তীব্র ব্যথা রয়েছে, পাদুটোই ফুলে গিয়েছে। শিশুটি খোঁড়াতে খোঁড়াতে বাড়ি ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার শরীরিক আঘাতের চিহ্ন দেখে হতবাক হয়ে যান।
ছাত্রের বাবা আরও জানান, তাঁর ছেলেকে এই মারধরের কথা কাউকে না বলার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল। এমনকী তাকে চুপ করে থাকার জন্য বিস্কুটও দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ করলে আরও মারধরের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। ছেলের অবস্থা দেখে বিচলিত হয়ে বাবা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে পুরো ঘটনাটি খুলে বলেন। তারপর পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের পর এমআরজি স্কুলের অধ্যক্ষ জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, "বিষয়টি আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ইংরেজি শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছি।"
কর্নাইলগঞ্জের সার্কেল অফিসার অভিষেক দাবাচা নিশ্চিত করেছেন যে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ধারা ১১৫(২), ৩৫১(৩) এবং ৩৫২ এর অধীনে অভিযুক্ত শিক্ষক প্রখর সিংয়ের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিষেক দাবাচা বলেন, "এই বিষয়ে বিশেষ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।" পাশাপাশি যোগ করেন যে, ঘটনাটি কর্নাইলগঞ্জ থানা এলাকার এমআরজি স্কুলে ঘটেছে।
পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তদন্ত চলছে।
