আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়ের রেশ তখনও কাটেনি। হাতের মেহেন্দির রং ফিকে হওয়ার আগেই শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হলো ২০ বছরের এক তরুণীর ঝুলন্ত দেহ। কুশীনগরের দুধাহি শহরের লাল বাহাদুর শাস্ত্রী নগরের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, পণের দাবিতে বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। খবর পেয়েই তদন্তে নামে পুলিশ৷ 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের ২২ নভেম্বর পিপরা জনমপুরের বাসিন্দা নেহা জসওয়ালের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল বিবেক জসওয়ালের। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই সব শেষ হয়ে গেল। মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় এই দু্র্ঘটনা। রবিবার সকালে শ্বশুরবাড়ির সকলের জন্য খাবার বানিয়ে নিজের ঘরে গিয়েছিলেন নেহা। এরপর দীর্ঘক্ষণ তাঁর সাড়াশব্দ না পেয়ে জানলার ফাঁক দিয়ে পরিবারের লোকেরা দেখেন, ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছেন ওই তরুণী।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করেন। নেহার বাবার অভিযোগ, পণের দাবিতেই তাঁর মেয়েকে খুন করা হয়েছে। এই মর্মে মৃতার স্বামী ও পরিবারের আরও ৬ সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিশুনপুরা থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে। বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে৷ 

অন্যদিকে, বাড়ির চৌবাচ্চা থেকে উপচে পড়ছে জল। আর সেই জলের নিচেই লুকিয়ে ছিল ভয়ঙ্কর এক ট্র্যাজেডি। বেঙ্গালুরুর সিঙানাহাল্লি কলোনিতে এক যুবতী ও তাঁর দুই যমজ সন্তানের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ এলাকা। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবতীর নাম এস বিজয়লক্ষ্মী (২৬)। তাঁর দুই ছেলের বয়স মাত্র পাঁচ বছর। মা ও দুই সন্তানের এহেন চরম পরিণতিতে চমকে উঠেছে রাজ্য৷ 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিজয়লক্ষ্মীর স্বামী সম্পত কুমার কাজ থেকে ফিরে দেখেন ঘর একদম নিঝুম। স্ত্রী বা সন্তানদের কারও সাড়াশব্দ নেই। এর মধ্যেই এক প্রতিবেশী লক্ষ্য করেন, বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক (বা চৌবাচ্চা) থেকে জল গড়িয়ে বাইরে আসছে। সন্দেহ হওয়ায় ঢাকনা খুলতেই দেখা যায় বিজয়লক্ষ্মীর দেহ। পরে পুলিশ এসে তল্লাশি চালিয়ে ভেতর থেকে দুই শিশু- চেতন ও চৈতন্যের নিথর দেহ উদ্ধার করে।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, দুই সন্তানকে চৌবাচ্চায় ফেলে দেওয়ার পর নিজেও ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন বিজয়লক্ষ্মী। ঠিক কী কারণে এই চরম পথ বেছে নিলেন তিনি, তা জানতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।