আজকাল ওয়েবডেস্ক: পণের লম্বা লিস্ট এবার প্রকাশ্যে। গ্রেটার নয়ডায় পণের জন্য নিক্কিকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার তাঁর স্বামী। এই ঘটনায় জড়িত তাঁর শ্বশুরবাড়ির সদস্যরাও। মেয়ের মৃত্যুর পর কাঁদতে কাঁদতেই মুখ খুললেন নিক্কির বাবা। জানালেন, বিয়ের সময় পণ হিসেবে কী কী দেওয়া হয়েছিল। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, স্করপিও এসইউভি, রোয়াল এনফিল্ড বাইক, নগদ টাকা এবং সোনার গয়না পণ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও মন ভরেনি বীপিন ও তাঁর পরিবারের। আরও ৩৬ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। সেই টাকা না পাওয়া জীবন্ত অবস্থায় নিক্কি কে জ্বালিয়ে দেন। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। 

নিক্কি দিদি কাঞ্চন জানিয়েছেন, গভীর রাত পর্যন্ত দুই ভাই বাইরে পার্টিতে মেতে থাকতেন। মেয়েদের সঙ্গ পছন্দ ছিল তাঁদের। রাত করে বাড়ি ফেরা, মদ্যপান ঘিরে আপত্তি জানালে, নিক্কি ও কাঞ্চনকে মারধর করতেন তাঁরা। এদিকে নিক্কির বাবা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, নিক্কির স্বামী বীপিনকে এনকাউন্টার করে মেরে ফেলা হোক। পাশাপাশি গুঁড়িয়ে দেওয়া হোক তাঁদের বাড়িও। 

নিক্কির বাবা ভিকারি সিং এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'ওরা সবাই খুনি। ওদের এনকাউন্টার করে মেরে ফেলা হোক। একটা পার্লারে কাজ করে আমার মেয়ে ওর সন্তানের দেখভাল করত। ওরা ব্যাপাক নির্যাতন করত। সবাই মিলে পরিকল্পনা করে আমার মেয়েকে খুন করেছে।' 

 

আরও পড়ুন: ট্রেনের শৌচালয়ের ডাস্টবিনে ও কী! পরিষ্কার করতে গিয়ে আঁতকে উঠলেন সাফাইকর্মীরা, স্টেশন জুড়ে তুমুল শোরগোল

 

নিক্কির বাবার আরও দাবি, 'পকেটমারদের ধরার জন্য পায়ে গুলি করতে পারে পুলিশ। কিন্তু এমন নৃশংস ঘটনার পরেও দোষীর এনকাউন্টার কেন হবে না! এই হল বিজেপি সরকার। বীপিন অন্য এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কে ছিল। তাই নিক্কি কে খুন করেছে।' এদিকে নিক্কির মায়ের দাবি, 'বীপিন ও তাঁর মাকে ফাঁসি দেওয়া হোক।' নিক্কির ছেলে পুলিশকে জানিয়েছে, 'মারধর করার সময়েই মায়ের গায়ে কিছু একটা ঢেলে দিয়েছিল বাবা ও ঠাকুমা। তারপর লাইটার জ্বালিয়ে মায়ের গায়ে ছুড়ে মারে।' 

 

২০১৬ সালে নিক্কির বিয়ে হয় সিরসা গ্রামে। বিয়ের ছয় মাস পর থেকেই শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। নিক্কি ও দিদির উপর চরম শারীরিক নির্যাতন করতেন শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। পণ হিসেবে দুজনের থেকে ৩৬ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন তাঁরা। 

 

নিক্কির দিদি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। মারতে মারতে সন্তানের চোখের সামনেই নিক্কির গায়ে আগুন জ্বালিয়ে দেন।‌ বাঁচার জন্য গায়ে আগুন নিয়েই সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিনি শেষরক্ষা হয়নি। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় নিক্কির মৃত্যু হয়েছে। 

 

নিক্কির উপর শারীরিক নির্যাতনের একাধিক ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দেখা গেছে, স্বামী বীপিন ও আরও এক মহিলা একের পর এক চড়, থাপ্পড়, কিল, ঘুষি মারতে থাকেন নিক্কিকে। এরপর গায়ে আগুন জ্বালিয়ে দেন। সেই অবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নীচে নেমে যান। সেখানে একজন নিক্কির গায়ে জল ছুড়ে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। 

 

নিক্কির দিদি জানিয়েছেন, বিয়ের সময় মনের মতো পণ না পাওয়ায় দুই বোনের উপরেই অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। স্বামীরাও তাতে যোগ দিতেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিনিও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। তিনি জানান, সে রাতে বারবার বলা হচ্ছিল, 'আমরা একজনের পণ পেয়েছি। আরেকজনের পণ কবে দেওয়া হবে? সবচেয়ে ভাল হয়, তোমরা মরে যাও। আমরা আবার বিয়ে করব।' শারীরিক নির্যাতনের জেরে সারারাত অচৈতন্য অবস্থায় ছিলেন নিক্কির দিদি কাঞ্চন। 

 

পুলিশ আধিকারিক সুধীর কুমার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতেই হাসপাতাল থেকে থানায় ফোন করে জানানো হয়। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় এই তরুণী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতেই তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই তরুণীর মৃত্যু হয়। তাঁর দিদির অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই নিক্কির স্বামী বীপিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিক্কির শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেওরের খোঁজেও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।