আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়া থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রের উপর এক গভীর ছাপ ফেলেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-র মৃত্যু। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন। এই ঘটনার জেরে, গোটা দেশে চল্লিশ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
এই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে উত্তর প্রদেশের বরবাঁকি জেলার কিন্তুর গ্রামে একাধারে শোক ও ইতিহাস মিলেমিশে একাকার।গ্রামবাসীদের কাছে এই ঘটনা শুধু এক রাজনৈতিক ঘটনাই নয়, এটি কার্যত জাগিয়ে তুলেছে তাঁদের পূর্বপুরুষের জীবন স্মৃতি ও তাঁদের ইতিহাসকে।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, আয়াতোল্লাহ খামেনেই-র সঙ্গে তাঁদের পূর্বসূরীদের এক গভীর ইতিহাসের সাক্ষ্মী এই গ্রাম। খামেনেই-র মেন্টর ও ইরানীয় ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতোল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনেই-র ঠাকুরদা সৈয়দ আহমেদ মাসাভি হিন্দি নাকি এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেছিলনে।
১৮০০-এর দশকে তিনি ভারত থেকে প্রায় পশ্চিম এশিয়ায় চলে যান। ফলে তাঁদের পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে “মাসাভি হিন্দি” নামে পরিচিত ছিল। গ্রামের বৃদ্ধদের কথায়, “তাঁরা হয়তো আর কখনও ফিরে আসেননি, কিন্তু তাঁদের স্মৃতি ও ঐতিহ্য এই মাটির সঙ্গে আজও মিশে আছে।” এখনও গ্রামের ঐতিহাসিক বাড়ি ‘সাইয়েদ ওয়াডা’ রয়েছে, যা সেই সময়কালের সাক্ষী বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, খামেনেই-র মৃত্যুর খবরে গ্রামের সকলের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই বলেন, এই ঘটনা তাঁদের জন্য শুধু একটা জনপ্রিয় নেতার মৃত্যু সংবাদ নয়, নিজেদের ইতিহাসকে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো একটা অনুভূতি।” স্থানীয়রা শুধু শোকপ্রকাশ করেই থেমে থাকেননি। তাঁরা প্রার্থনা করেছেন খামেনেই-র আত্মার শান্তির জন্য এবং ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য।
বিশ্ব রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, খামেনেই-র মৃত্যু পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ক্ষমতা ভারসাম্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ ও নেতারা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কিছু দেশ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে চরম অবস্থান নিয়েছে, আবার কিছু দেশ পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার আহ্বান জানিয়েছে। কিছু রাজনৈতিক নেতাদের মতে, ইতিমধ্যেই এই ঘটনা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটা বড় পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে গোটা বিশ্বকে।
