আজকাল ওয়েবডেস্ক: রবিবার কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ পেশ করার সময়, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারতের অর্থনীতিকে পরিচালনা করতে এবং একই সঙ্গে বৃদ্ধি বজায় রেখে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য তিনটি কেন্দ্রীয় 'কর্তব্য' বা দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
সীতারামন বলেন, "আমাদের সরকারের 'সংকল্প' হল দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত এবং অনগ্রসরদের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা।"
অর্থমন্ত্রী, তাঁর নবমবারের বাজেট ঘোষণা এবং নবনির্মিত কর্তব্য ভবন থেকে পেশ করা প্রথম বাজেটে বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক রোডম্যাপটি বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং কাঠামোগত সংস্কারের গতি বজায় রাখার উপর ভিত্তি করে তৈরি। এর মধ্যে রয়েছে:
- উৎপাদনশীলতা এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত ও টেঁকসই করা।
- জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা এবং ভারতের দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবে বৃদ্ধিকে পোক্ত করা।
- সকল কৃষক, সম্প্রদায় এবং ধর্মের মানুষের জন্য সম্পদ ও সুযোগের ক্ষেত্রে ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার এবং উন্নয়নে ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে 'সবকা সাথ, সবকা বিকাশ' নীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নীতি নির্ধারণের পথনির্দেশক নীতি হিসেবে আত্মনির্ভরতা'কে বর্ণনা করেছেন। সীতারামন বলেন, ভারত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞার ধাক্কা সামলাচ্ছে। তার মধ্যেই আত্মনির্ভরতা সরকারের "মূল নজর" হিসেবে রয়ে গিয়েছে।
৬টি মূল ক্ষেত্রে সরকারি হস্তক্ষেপ
অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত ও টেঁকসই করার জন্য অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার ছয়টি ক্ষেত্রে লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপ চালু করবে। তিনি বিস্তারিতভাবে বলেন, "৭টি কৌশলগত খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি, ঐতিহ্যবাহী শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা, চ্যাম্পিয়ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) তৈরি করা, পরিকাঠামোতে গতি সঞ্চার করা, দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং নগর অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা।"
নির্মলা সীতারমন আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় একত্রিত করা এবং কাঠামোগত সংস্কারের গতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন। সীতারামন আরও বলেন, "সংস্কারের এক্সপ্রেস ট্রেনটি তার পথে চলছে এবং আমাদের কর্তব্য পালনে সহায়তা করার জন্য তার গতি বজায় রাখবে।"
উদ্ভাবনের উপর আলোকপাত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, শাসনব্যবস্থা, উৎপাদনশীলতা এবং পরিষেবা সরবরাহ উন্নত করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে "শক্তি গুণক" হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
ভারত, মন্থর বিশ্ব অর্থনীতি এবং দুর্বল বাহ্যিক চাহিদার কারণে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে, সেই সময়েই এ বছরের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করা হচ্ছে। এর মধ্যেও বৃদ্ধির গতি বজায় রেখে স্থিতিশীল বৃদ্ধি প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া সরকার।
