আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন, রবিবার পেশ করেছেন তাঁর নবম কেন্দ্রীয় বাজেট। এই বাজেটে আয়কর ছাড় মিলবে? সস্তা হবে সোনা? মধ্যবিত্তের কি সুরাহা হবে? গত কয়েকদিন ধরে এইসব প্রশ্ন যমেওন ঘুরছিল, তেমনই বাজেট পেশের আগে থেকেই ঘুরছিল আরও একটি প্রশ্ন, এবার নির্মলা সীতারামন বাজেট পেশ করার জন্য বেছে নেবেন কোন শাড়ি? কারণ,  বছরের পর বছর ধরে, বাজেটের দিন নির্মলা সীতারমনের পোশাকের পছন্দগুলি বাজেট বক্তৃতার মতোই মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। তাঁর পরনের শাড়ি প্রতিবার ভারতের একটি বিশেষ অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করে এবং স্থানীয় তাঁতি, কারুশিল্প এবং বস্ত্র ঐতিহ্য উদযাপন করে। বাজেট পেশের আগে থেকে, বাজেট পেশের পরেও, জোর আলোচনা ছিল তাঁর শাড়ি নিয়ে। তিনি কি কাঞ্জিভরম পড়েছেন? নাকি তামিলনাড়ুর কাঞ্জিভরমের মতো অন্ধ্রপ্রদেশের রেশম পরেছেন?


তাঁর শাড়ি নিয়ে এই বিপুল জল্পনা, উন্মাদনার মাঝেই প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন খোদ অর্থমন্ত্রী। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর তেমনটাই। সূত্রের খবর, রবিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বাজেট দিবসে লিঙ্গ বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেছেন এই শাড়ি চর্চা প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, জনসাধারণের মনোযোগ প্রায়শই তাঁর কাজের থেকে বেশি তাঁর পোশাক পরিচ্ছেদের দিকে চলে যায়। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট উপস্থাপনের পর এক আলাপচারিতায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর, বাজেট পেশের দিনে আমি কী পরব তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আর তাতেই খানিকটা চাপ পড়ে তাঁর উপর। তিনি বলেন, 'তারা কি কখনও একজন পুরুষ অর্থমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে তিনি বাজেটের সময় কী পরছেন?' নির্মলার বক্তব্য কোনও পুরুষ অর্থমন্ত্রীকে এইই বিষয়টি জিজ্ঞাসা করা হয় না। কিন্তু একজন মহিলা অর্থমন্ত্রীকে ফি বছর এই প্রশ্ন করা হয়, তা নিয়ে চর্চা হয়। 

 

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর পরনে থাকা শাড়ি নিয়ে বেশকিছু তথ্য সামনে এসেছে। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, বেগুনি ঘেঁষা মেরুন জমিনের শাড়ির উপর হালকা সোনালি, বাদামী চেক রয়েছে। যা তামিল ভাষায় 'কট্টম' নামে পরিচিত। শাড়ির পাড় কফি বাদামী রঙের। তার উপর রয়েছে সুতোর কাজ। এই প্রসঙ্গে আরও একটি দিক উঠে আসছে, সামনেই বিধানসভা ভোট তামিলনাড়ুতে। সেদিক থেকে লক্ষণীয়, এই কাঞ্জিভরম পরে কি বাজেট পেশের আগেই বার্তা, উপহারের ঝুলি পাচ্ছে তামিলনাড়ু? এবার শাড়ির সঙ্গে হলুদ রঙের সোয়েটার ব্লাউজকেই বেছে নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী, সঙ্গে কাঁধে ফেলেছেন আলগা চাদর। 

এর আগে, গতবছর বিহারের মধুবনী শাড়ি করে, নীতীশের রাজ্যকে ভোটের আগে উপহার উপুড় করে দিয়েছিলেন নির্মলা। তামিলনাড়ুর ক্ষেত্রেও তাই ঘটতে চলেছে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর শাড়ি দেখে অনেকেই তেমনটাই মনে করছেন। 

এর আগে, ২০২৫ সালে নির্মলা সীতারামন একটি সোনালি পাড়ের ক্রিম রঙের শাড়ি পরেছিলেন, যাতে বিহারের মধুবনী শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়েছিল, যা বিখ্যাত শিল্পী দুলারি দেবী ভারতীয় লোকশিল্প এবং নারী কারুশিল্পকে তুলে ধরার জন্য উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন।  ২০২৪ সালে, অন্তর্বর্তী বাজেটে একটি বেগুনি পাড়ের অফ-হোয়াইট সিল্কের শাড়ি পরেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী, যা কমনীয়তা ও ভারসাম্যের প্রতীক ছিল, অন্যদিকে বাজেট উপস্থাপনায় কাঁথা এমব্রয়ডারি করা একটি নীল হ্যান্ডলুম তসর সিল্কের শাড়ি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৩ সালের বাজেটে  নির্মলা সীতারমন একটি সিঁদুর লাল বেনারসী সিল্কের শাড়ি পরেছিলেন, শাড়ির পাড়ে কালো ও সোনালি মন্দিরের নকশা ছিল। যা সাহস, প্রতিশ্রুতি এবং ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। ২০২২ সালে, ওড়িশার মরচে রঙের বোমকাই পড়েছিলেন তিনি। শাড়িটি গ্রামীণ কারুশিল্পকে প্রদর্শন করার পাশাপাশি পূর্ব ভারতের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ও ঐতিহ্যকে জাতীয় স্বীকৃতি এনে দিয়েছিল। ২০২১ সালের বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পড়েছিলেন, তেলেঙ্গানার একটি লাল ও অফ-হোয়াইট পোচাম্পল্লি ইক্কত সিল্কের শাড়ি, যা স্থানীয় বয়ন ঐতিহ্যকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি সরকারের "ভোকাল ফর লোকাল" উদ্যোগকে তুলে ধরেছিল।