আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাজেটে কী বলছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী? কী কী সুরাহা হবে মধ্যবিত্তের? ছাড় মিলবে কোন কোন বিষয়ের উপর? নজর একাধিক দিকে, একাধিক খাতে। এসবের মাঝেই, বাজেট পেশের সময় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ঘোষ্ণা করলেন, কবে থেকে নয়া আয়কর আইন কার্যকর হবে সেই বিষয়ে।

১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার বাজেট পেশের সময় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ঘোষণা করেন, ১ এপ্রিল থেকে নতুন আয়কর আইন কার্যকর করবে কেন্দ্র। 

 

 নির্মলা সীতারমনের ঘোষণা অনুসারে, আয়কর রিটার্নের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ জুলাই করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের কর জমা দিতে সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও জানানো হয়েছে যে, কর ফাঁকিতে শাস্তি নয়, জরিমানা দিলেই মিলবে ছাড়। 

এই বছরের বাজেটের মূল লক্ষ্য ছিল ব্যক্তিগত আয়কর, করদাতাদের প্রত্যাশা পূরণ। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী এই বাজেটে কর রাজস্ব ২৮.৭ লক্ষ কোটি টাকা, বাজেটের আকার ৫৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা অনুমোদন করেছেন। 

 

আয়কর নিয়ে এই বাজেটে কী ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী?

আয়করের রিটার্ন জমা করার সময় ৩১ ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩১ মার্চ করা হচ্ছে। এর জন্য ন্যূনতম ফি দিতে হবে। 

ট্যাক্স রিটার্নের নিয়মেও ছাড়। যারা আইটিআর-১, আইটিআর-২ জমা দেন, তারা ৩১ জুলাই পর্যন্ত জমা দিতে পারবেন। নন-অডিট বিজনেস বা ট্রাস্ট ৩১ অগস্ট পর্যন্ত জমা দিতে পারবেন।

করদাতাদের সুবিধার্থে আয়কর আইনের ফর্ম ১৫জি বা ফর্ম ১৫এইচ গ্রহণ করা হবে।

অনাবাসী বা বিদেশিরা যদি স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করেন, তবে তাতে টিডিএসে ছাড় দেওয়া হবে। যে নাগরিক বা বাসিন্দা কিনবেন, তাদের প্যান ভিত্তিক চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়া যাবে, টেম্পোরারি অ্যাকাউন্টিং নম্বর বা ট্যানের প্রয়োজন পড়বে না।

পড়ুয়া, কর্মীদের, অনাবাসীদের জন্য এককালীন ৬ মাসের ‘ফরেন অ্যাসেট ডিসক্লোজার স্কিম’ ঘোষণা। দুই ধরনের করদাতাদের জন্য এই সুবিধা দেওয়া হবে। প্রথম, যারা ওভারসিজ আয় ডিসক্লোজ করেননি। দ্বিতীয়, যারা ওভারসিজ আয় ডিসক্লোজ করেছেন, কর দিয়েছেন, কিন্তু অ্যাসেট ডিসক্লোজ করেননি।

প্রথম শ্রেণির জন্য ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আনডিসক্লোজড অ্যাসেটের জন্য সম্পত্তির মূল্যের ৩০ শতাংশ বা আনডিসক্লোজড অ্যাসেটের ৩০ শতাংশ দিতে হবে আয়কর বাবদ এবং আলাদাভাবে ৩০ শতাংশ আয়কর জরিমানা বাবদ দিলে কোনও শাস্তি হবে না।

দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পত্তিতে জরিমানা ও শাস্তি থেকে বাঁচতে ১ লক্ষ টাকা দিতে হবে।

 ২০২৫ সালের বাজেটে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় (অর্থাৎ মূলধনী লাভের মতো বিশেষ হারের আয় ব্যতীত প্রতি মাসে গড় আয় ১ লক্ষ টাকা) করমুক্ত করা হয়।

৭৫,০০০ টাকার স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের কারণে বেতনভোগী করদাতাদের জন্য এই সীমা ছিল ১২.৭৫ লক্ষ টাকা।