আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র পাশে দাঁড়াতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে আহ্বান জানালেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। সোমবার মুম্বইয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে উদ্ধব জানান, তিনি নিজে ওই প্রতিবাদ মঞ্চে যাবেন। একই সঙ্গে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে দেশবাসীকেও এই বিক্ষোভে শামিল হওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।

মুম্বইয়ের সাংবাদিক বৈঠকে উদ্ধব বলেন, ‘‘আমি নিজে যাব। রাহুল গান্ধীজিরও যাওয়া উচিত। দেশের যুবসমাজের ওপর যাঁদের ভরসা আছে, তাঁদের প্রত্যেকের ওখানে যাওয়া দরকার। গোটা দেশের মানুষের রাস্তায় নেমে এদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’’ আগামী ২০ জুলাই দিল্লি গিয়ে যন্তর মন্তরের ওই কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেন উদ্ধব।

নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস-সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে গত ২০ জুন থেকে যন্তর মন্তরে ধর্নায় বসেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। 

বোস্টন-ফেরত অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বাধীন এই সংগঠনটির পাশে ইতিমধ্যেই দাঁড়িয়েছেন বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই বিচিত্র নামকরণ করা হয়েছে।

আম আদমি পার্টি (আপ), তৃণমূল কংগ্রেস ও বামেদের মতো একাধিক বিরোধী দলের নেতারা ইতিমধ্যেই যন্তর মন্তরে গিয়ে এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন। আপ সাংসদ সঞ্জয় সিংহ, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতিশী, তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র এবং সিপিআইএমের বৃন্দা কারাতের মতো ব্যক্তিত্বরা এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

তবে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও এই মঞ্চকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো হয়নি, যদিও বেশ কিছু দিন ধরে নিট কেলেঙ্কারি নিয়ে লাগাতার সরব তারা। কংগ্রেসের অমরাবতীর সাংসদ বলবন্ত বসন্ত ওয়াংখেড়ে যন্তর মন্তরের মঞ্চে গেলেও, রাহুল গান্ধী-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আপাতত ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়েছেন। এর নেপথ্যে বিজেপির একটি অভিযোগও কাজ করতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপির দাবি, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে হাওয়া তুলতে কংগ্রেসই পিছন থেকে এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে টাকা জোগাচ্ছে।

অন্য দিকে, এই মঞ্চে যাওয়ার বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও, পড়ুয়াদের সমস্যা নিয়ে সমান্তরালভাবে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ নামে একটি নতুন প্রচার কর্মসূচি শুরু করেছেন রাহুল গান্ধী। 

উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে একটি সমাবেশের ডাক দিয়ে সমাজমাধ্যমে রাহুল লিখেছেন, ‘‘দুর্নীতির জেরে আজ পড়ুয়াদের পরিবার ঋণের দায়ে ডুবছে, হতাশায় ভুগছে। এই দুর্নীতির হাত ধরেই জন্ম নিয়েছে প্রশ্ন ফাঁসের মাফিয়াতন্ত্র, যা কোটি কোটি পরীক্ষার্থীর বছরের পর বছর ধরে করা কঠোর পরিশ্রম এক ঝটকায় কেড়ে নিচ্ছে।’’ দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিরাট বদল আনার দাবি তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিও জানিয়েছেন রাহুল।