আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনায় যে সকল আবেদনকারীর আবেদন বাতিল হয়েছে বা যে সকল আবেদনগুলি আন্ডার এনকোয়েরি সেগুলির ভেরিফিকেশন শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্যব্যাপী যাচাই প্রক্রিয়ার পর মহারাষ্ট্রের ‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লড়কি বহিন যোজনা’ থেকে ৯২ লক্ষ সুবিধাভোগীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। 

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি নথি থেকে দেখা গিয়েছে, মহারাষ্ট্র সরকারের ঘোষিত প্রায় ৮০ লক্ষের চেয়েও বাদ পড়া সুবিধাভোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। এই প্রকল্পের অধীনে আগে নথিভুক্ত প্রতি ১০ জন মহিলার মধ্যে প্রায় ৪ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাদ পড়াদের মধ্যে বেশিরভাগই অর্থাৎ প্রায় ৬২ লক্ষ্য বাধ্যতামূলক ইলেকট্রনিক ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ (কেওয়াইসি) যাচাই না করার কারণে বাদ পড়েছেন। অন্যদের অযোগ্য বলে মনে করা হয়েছে কারণ তাদের পারিবারিক আয় নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছিল, অনেকে সরকারি কর্মী ছিলেন, অনেকে অন্যান্য প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন, অনেকের বয়ঃসীমা পার হয়ে গিয়েছিল। প্রায় ২৯ হাজার পুরুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন।

এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের অনুমান, যাচাইয়ের পর বাদ পড়া সুবিধাভোগীরা অর্থ প্রদান বন্ধ হওয়ার আগে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৪,০০০ কোটি টাকা পেয়েছিলেন। তাঁরা বলেছেন, যাঁদের টাকা দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে, তাঁরা গড়ে প্রায় ১০ মাস ধরে সরকারি টাকা পেয়েছিলেন। 

শুক্রবার রাজ্য বিধানসভায় পেশ করা কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)-এর ‘রাজ্য অর্থ নিরীক্ষা রিপোর্ট ২০২৪-২৫’-এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ব্যয়, ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে তহবিল আটকে রাখা এবং দুর্বল আর্থিক নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলি তুলে ধরার পরেই এই তথ্যগুলি সামনে এসেছে।

‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লড়কি বহিন যোজনা’ ২০২৪ সালের ২৮ জুন অনুমোদিত হয়েছিল। এই প্রকল্পের আওতায় বার্ষিক ২.৫ লক্ষ টাকার কম আয়ের পরিবারের ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সী যোগ্য মহিলাদের ডিবিটি-র মাধ্যমে প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা দেওয়া হতো। সরকারি কর্মী, আয়করদাতা এবং অন্যান্য কিছু প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা এই প্রকল্পের টাকা পাওয়ার যোগ্য নন।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে এই প্রকল্পের আওতায় সর্বোচ্চ প্রায় ২.৪৩ কোটি সুবিধাভোগী ছিলেন। যা এখন কমে বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় ১.৫ কোটিতে এসে দাঁড়িয়েছে। এই প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দ ৬০,০০০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬২ লক্ষ সুবিধাভোগী, অর্থাৎ তালিকা থেকে বাদ পড়াদের ৬৭ শতাংশ, বাধ্যতামূলক ই-কেওয়াইসি যাচাই সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৬ লক্ষ, অর্থাৎ ১৭ শতাংশ, এমন পরিবারের সদস্য ছিলেন যাদের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার যোগ্যতার সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করেছিল। প্রায় ৪.৪২ লক্ষ, অর্থাৎ ৪.৮ শতাংশ, যাচাইয়ের সময় জানিয়েছিলেন যে তাঁরা বা তাঁদের পরিবারের কোনও সদস্য সরকারি কর্মচারী।

প্রায় ৩.৬ লক্ষ, অর্থাৎ ৩.৯ শতাংশ, ইতিমধ্যেই সঞ্জয় গান্ধী নিরাধার যোজনার অধীনে সহায়তা পাচ্ছিলেন। প্রায় ২.৫ লক্ষ, অর্থাৎ ২.৭ শতাংশ ক্ষেত্রে একই পরিবারের দুইয়ের অধিক সদস্য সুবিধা গ্রহণ করছিলেন। প্রায় ১.৮ লক্ষ, অর্থাৎ ২ শতাংশ, ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বসীমার ঊর্ধ্বে ছিলেন এবং প্রায় ১.৭ লক্ষ, অর্থাৎ ১.৮ শতাংশ, জেলা-স্তরের যাচাইয়ের সময় চিহ্নিত হয়েছিলেন। এছাড়াও, প্রায় ২৯,০০০ পুরুষ এবং প্রায় ৮,০০০ সরকারি কর্মচারী অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও সুবিধা পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।