আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলন্ত ট্রেনের ভিড়ে এক অসুস্থ সহযাত্রীর সঙ্গে অমানবিক আচরণের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে উত্তাল নেটপাড়া। জনৈক অঙ্কিত পাণ্ডে নামের এক ব্যক্তি এক্স হ্যান্ডেলে এই ঘটনার বিবরণ শেয়ার করার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। মানুষের মন থেকে কি সহানুভূতি আর সৌজন্যবোধ সত্যিই মুছে যাচ্ছে? এই প্রশ্নই এখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে নেটিজেনদের।

অঙ্কিত বাবু তাঁর পোস্টে জানিয়েছেন, তিলধারণের জায়গা না থাকা এক ঠাসা লোকাল ট্রেনে তিনি সফর করছিলেন। সেই ভিড়ের মধ্যেই তিনি লক্ষ্য করেন, জন্ডিসে আক্রান্ত এক ব্যক্তি, যাঁর চোখ দুটি স্পষ্ট হলুদ দেখাচ্ছিল এবং শরীর অত্যন্ত দুর্বল ছিল, বসার জন্য বিনীতভাবে এক যুবতীকে অনুরোধ করেন। অত্যন্ত ভদ্রভাবে তিনি বলেন, ‘মা, একটু বসতে দাও। শরীরটা ভালো লাগছে না।’ কিন্তু অভিযোগ, যুবতী সেই অনুরোধ সপাটে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘আমারও শরীর ভালো নেই, আমি সিট দেব না।’ অসুস্থ ব্যক্তিটি আর কোনও  কথা না বাড়িয়ে, ওই দুর্বল শরীর নিয়েই ভিড়ের মধ্যে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকেন।

কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। কোনোমতে ট্রেনের জানালার কাছে গিয়ে তিনি চলন্ত ট্রেনের বাইরে বমি করে ফেলেন। কিন্তু এরপর পাশে থাকা মানুষের থেকে সহানুভূতি বা সাহায্য পাওয়ার বদলে তাঁর কপালে জোটে চরম অপমান। অভিযোগ, ওই যুবতী সিট থেকে উঠে এসে সবার সামনে লোকটিকে পরপর দুটি চড় মারেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন। চোখে জল নিয়ে, কোনও  প্রতিবাদ না করে নীরবে ভিড়ের অন্য পাশে সরে যান সেই অসুস্থ মানুষটি। অঙ্কিত বাবু আক্ষেপের সুরে লিখেছেন, সিট না দেওয়ার পেছনে যাই কারণ থাকুক না কেন, একজন অসুস্থ মানুষকে এভাবে চড় মারা বা সবার সামনে অপমান করা কি কোনওভাবে মেনে নেওয়া যায়? মানবতা বোধহয় আমাদের ভাবনার চেয়েও দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।

এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব না হলেও, পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে। সমাজ যে দিন দিন কতটা হিংস্র ও অনুভূতিহীন হয়ে পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। একজন মন্তব্য করেছেন, মানুষ যতই মানসিক চাপে থাকুক না কেন, একজন অসুস্থ প্রবীণ মানুষের গায়ে হাত তোলা আর তাঁকে এভাবে জনসমক্ষে অপমান করা চরম অমানবিকতা। অন্য একজন লিখেছেন, ওই যুবতীর এই আচরণকে কোনও যুক্তি দিয়েই আড়াল করা যায় না, মানুষ হিসেবে আমরা সত্যিই ব্যর্থ হচ্ছি। কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন সহযাত্রীদের ভূমিকা নিয়েও— অত বড় একটা ভিড় ট্রেনের মধ্যে একজন অসুস্থ মানুষের ওপর যখন এমন অন্যায় হচ্ছিল, তখন বাকিরা কেন চুপ করে রইলেন? সব মিলিয়ে, এই ঘটনা আরও একবার আমাদের সমাজের ক্ষয়িষ্ণু মূল্যবোধ আর হারিয়ে যাওয়া সহানুভূতির রূঢ় বাস্তবটাকে সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।