সমীর ধর, ত্রিপুরা: রাহুল গান্ধী সম্পর্কে 'উস্কানিমূলক ও অবমাননাকর' মন্তব্যের অভিযোগ। এবার এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলেন ত্রিপুরার কংগ্রেস নেতারা। দায়ের করা হল অভিযোগ। প্রতিবাদে বুধবার মিছিলও করেন কংগ্রেসের নেতা সহ কর্মী সমর্থকেরা।
বুধবার এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী-সহ চার বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে আগরতলা পশ্চিম থানাতে এফআইআর দায়ের করলেন ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিসকুমার সাহা। অভিযুক্তদের নামের তালিকায় রয়েছেন, মহারাষ্ট্রের বিজেপি বিধায়ক সঞ্জয় গাইকোয়াড, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রভনিত সিং বিট্টু, দিল্লির প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক তারবিন্দর সিং এবং উত্তরপ্রদেশের বিজেপি মন্ত্রী রঘুরাজ সিং। জমা দেওয়া এফআইআরে আশিস আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দেশে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা তথা লোকসভার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হতে পারে। ঠিক যেমন তাঁর ঠাকুমা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং বাবা আরেক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছিল। রাহুল গান্ধী সম্প্রতি আমেরিকা সফরের সময় ভারতে শিখ-সহ অন্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন বলে মন্তব্য করেন। তারপরই তার ওপর কটুক্তি করতে থাকেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা।
কংগ্রেস সাংসদ ভার্জিনিয়ায় বক্তৃতা রাখতে গিয়ে শিখদের ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা প্রসঙ্গে জানান, যুদ্ধ শুরু হয় শিখদের পাগড়ি পরে ঢুকতে দেওয়া হবে কি না এই বিষয় নিয়ে। কিন্তু গুরুদ্বারা শুধু শিখদের নয় এটা সব ধর্মের লোকেদের জন্য। শিখদের দেখলেই বোঝা যায় ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিপন্ন। আর এটা হয়েছে বিজেপির শাসনকালে।
তাঁর এই মন্তব্যেই দানা বেঁধেছে বিতর্ক। বিজেপির জাতীয় মুখপত্র আরপি সিং কটাক্ষ করে জানিয়েছেন, ১৯৮৪ সালে, দিল্লিতে প্রায় ৩ হাজার শিখকে গণহত্যা করা হয়েছিল, তাদের পাগড়ি খুলে ফেলা হয়েছিল, তাদের চুল কাটা হয়েছিল এবং তাদের দাড়ি কামানো হয়েছিল। এরপরই তিনি যোগ করেন, কংগ্রেস যখন ক্ষমতায় ছিল তখন এই ঘটনা ঘটেছিল, সে কথা কিন্তু রাহুল গান্ধী উল্লেখ করেননি। এই ঘটনার জন্য তিনি কংগ্রেস সাংসদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিতে চলেছেন বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংও এক হাত নেন রাহুল গান্ধীকে। এক বিবৃতিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে ভুল বোঝানোর রাজনীতিতে জড়িত ছিল এবং শিখ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ছিল, তারা এখন আমাদের জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা করছে।" আমি শুধু একজন গর্বিত শিখ নই, আমি এই জন্যও গর্বিত যে বর্তমান সরকারের অধীনে শিখরা এখনকার সবচেয়ে বেশি নিরাপদ এবং সম্মানিত বোধ করছে বলে মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি।
এখানেই শেষ নয়, মহারাষ্ট্রের বিজেপি বিধায়ক সঞ্জয় গাইকোয়াড ঘোষণা করেছেন, রাহুল গান্ধীর জিহ্বা কেউ কেটে আনতে পারলে তিনি তাঁকে ১১ লাখ টাকা পুরস্কার দেবেন। অন্য তিন বিজেপি নেতাও রাহুলকে 'দেশদ্রোহী' তকমা দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই দায়ের করা হয় এআইআর। কংগ্রেস নেতা আশিস সাহা অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিতভাবে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ঘৃণার বাতাবরণ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। অভিযোগের তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থার দাবি করেছেন এদিন তিনি।















